মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মুন্সীগঞ্জের প্রবাসী পরিবারে উদ্বেগ

0
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মুন্সীগঞ্জের প্রবাসী পরিবারে উদ্বেগ

আমাগো কি আর ঈদ আনন্দ আছে, ঠিক মতো ঘুম নাই, খাওয়া নাই। আমার ছেলে আছে আগুনের মধ্যে, পোলার লেইগা দিন রাত দোয়া করি- কথা গুলো বলছিলেন মুন্সীগঞ্জ কাতার প্রবাসী সবুজের মা। ঠিক এমনই হাহাকার মুন্সীগঞ্জের শত শত প্রবাসী পরিবারে। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রবাসীদের পরিবারে দেখা দিয়েছে উৎকণ্ঠা। প্রতিদিন টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের খবর দেখে স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। অনেকেই বারবার ফোন করে প্রিয়জনদের খোঁজ নিচ্ছেন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার খবরে উদ্বিগ্ন মুন্সীগঞ্জের হাজারো প্রবাসী পরিবার। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা। অনেক পরিবারের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। পরিবারের শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের চোখে মুখে চিন্তার ভাজ। 

সদর উপজেলার এক প্রবাসী আলাউদ্দিনের মা বলেন, আমার ছেলে কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছে। এখন যুদ্ধের খবর শুনে সারাক্ষণ চিন্তায় থাকি। ঈদ সামনে, কিন্তু মনে কোনো আনন্দ নেই। তাহাজ্জুদ পড়ি, আর দোয়া করি, আল্লাহ আমার পোলারে ভালো রাখুক।

গজারিয়া উপজেলার এক প্রবাসীর মা সাজেদা বেগম বলেন, আমার ছেলে কয়েক বছর কুয়েত আছে। টিভিতে যুদ্ধের খবর শুনে খুব ভয় লাগে। ঈদ সামনে, নাতি-নাতনীদের কিছুই কিনে দেই নাই। সব সময় ছেলের চিন্তায় থাকি, মনটা একদম ভালো নেই। আল্লাহই তাড়াতাড়ি এ যুদ্ধ বন্ধ করুক।

আরেক দুবাই প্রবাসী রফিকের স্ত্রী বলেন, প্রতি বছর ঈদের সময় ছেলের সঙ্গে ভিডিও কলে আনন্দ ভাগাভাগি করলেও এবার সারাক্ষণ তার নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তায় আছি। সে অনেক দূরে থাকলেও মনে হতো খুব কাছে আছে। কিন্তু এবার সারাক্ষণই ভয়ে থাকি, কিছু সময় যোগাযোগ বিছিন্ন হলে মন হয় দম বন্ধ হয়ে আসছে।

জেলা প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা থেকে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে জেলার হাজারো পরিবার নির্ভরশীল।

স্থানীয়রা জানান, মুন্সীগঞ্জের হাজার হাজার পরিবার প্রবাসীদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা আশা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং প্রবাসীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন।

মুন্সীগঞ্জের প্রবাসী পরিবারগুলো মনে করে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেওয়া উচিত।

প্রবাসীদের স্বজনদের প্রত্যাশা—মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হবে এবং প্রিয়জনরা নিরাপদে দেশে ফিরে আবারও পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here