থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে জাপানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা

0
থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে জাপানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় (থার্ড) টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে জাপানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

শুক্রবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাপানের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

আলোচনার মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে এমবার্কেশন বা বহিগর্মন ফি, আপফ্রন্ট ফি বা অগ্রিম পরিশোধ এবং রেভিনিউ শেয়ারিং বা আয় ভাগাভাগি বিশেষ গুরুত্ব পায় বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, যাত্রীসাধারণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

এসময় বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানের পক্ষ থেকে দ্রুত পুনরায় একটি সংশোধিত প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

আগামী মার্চ মাসের শেষের দিকে আবার বৈঠক আয়োজন নিয়েও আলোচনা হয়েছে সেখানে।

বিমানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবি।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জাপানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাপান দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তাকাহাসি নাওকি, জাপানের ভূমি, অবকাঠামো ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার রিয়েকো নাকায়েমাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

২০১৭ সালে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে অনেকটা তড়িঘড়ি করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেসময় বেবিচক জানিয়েছিল, ২০২৪ সালেই পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে থার্ড টার্মিনালের। কিন্তু তা আর হয়নি।

অবকাঠামো নির্মাণের দিক থেকে আরও দুই বছর আগে কাজ শেষ হওয়া থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য চুক্তির অপেক্ষায় চলে গেছে আরও অনেকটা সময়।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকারও চারটি কোম্পানির একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি করে বিরাট এই অবকাঠামোটাকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ওই চুক্তি হয়নি।

শুক্রবার সেই জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিসহ বসেছিলেন সরকারের চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা।

জাপানি এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, সোজিৎজ কর্পোরেশন ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন।

মূলত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থায়নে করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থাকায় তাদের দেশীয় কোম্পানির কাছে এটা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা শুরু থেকেই হচ্ছিল।

মাস খানেক আগে বিএনপি সরকার গঠনের পর থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। গেল ২২ ফেব্রুয়ারি থার্ডি টার্মিনাল নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের পর দ্রুত এটির চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার বৈঠকের পরেও কবে নাগাদ থার্ড টার্মিনাল চালু হতে পারে সে বিষয়ে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।

তার আগে বুধবার প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেছিলেন, নয় মাসের মধ্যে এই টার্মিনাল চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসাব ধরলে এই বছরের শেষ নাগাদ যাত্রীরা এই টার্মিনাল ব্যবহার করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here