হরমুজ প্রণালিতে কেন নিরাপত্তা দিতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র?

0
হরমুজ প্রণালিতে কেন নিরাপত্তা দিতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, এই মুহূর্তে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজকে নৌ নিরাপত্তা দিতে তারা এখনো প্রস্তুত নয়।

মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রধান মনোযোগ ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার দিকে। সে কারণে তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে এখনই নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, খুব শিগগিরই ট্যাঙ্কার এসকর্ট কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে এখনো সে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের বড় অংশই ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং সেই সক্ষমতা তৈরির শিল্পব্যবস্থা ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ক্রিস রাইট আরও জানান, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এই মাসের শেষের দিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু হতে পারে।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকেই অস্থির করেনি, এর প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোতেও খাদ্যসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি মায়ের্স্কের প্রধান নির্বাহী ভিনসেন্ট ক্লার্ক বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য শিপিং কোম্পানিগুলোর গ্রাহকদের সঙ্গে আগেই চুক্তি থাকে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং বাজারের সাধারণ ক্রেতাদের ওপর গিয়ে পড়বে।

ভিনসেন্ট ক্লার্কের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথগুলো এখন বড় ঝুঁকির মুখে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার আশঙ্কার কারণে অনেক শিপিং কোম্পানি এই পথ ব্যবহার করতে চাইছে না।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন জাহাজের কর্মীদের নিরাপত্তা। ড্রোন হামলা বা সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকলে কোনো কোম্পানির পক্ষেই জাহাজ ও কর্মীদের এমন বিপদের মুখে পাঠানো সম্ভব নয়।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ নৌবাহিনীর পাহারায় জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব দিলেও বেসরকারি শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয়।

সোর্সঃ আল জাজিরা, সিএনবিসি, বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here