ন্যাটোর রাডারের পরীক্ষা নিচ্ছে ইরান?

0
ন্যাটোর রাডারের পরীক্ষা নিচ্ছে ইরান?

তুরস্কের আকাশসীমায় গত এক সপ্তাহে ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অনুপ্রবেশ ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ রাডার ঘাঁটি লক্ষ্য করে একটি সুপরিকল্পিত পরীক্ষা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্কের মালানতিয়ায় অবস্থিত কুচুরিক রাডার ঘাঁটিটি লক্ষ্য করে এই উস্কানিমূলক তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। 

গত সপ্তাহে দক্ষিণ তুরস্কের হাতায় শহরের কাছে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে, যা ইনজিরলিক বিমান ঘাঁটি থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে ছিল। এর পর গত মঙ্গলবার মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে ছোড়া উন্নত মানের মিসাইল দিয়ে দ্বিতীয় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়। ন্যাটোর প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় কোনো ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি থেকে ছোড়া হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এদিকে ইরান এই ঘটনার দায় অস্বীকার করে একে ইসরায়েলের একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ (ষড়যন্ত্রমূলক হামলা) বলে দাবি করেছে। তবে আঙ্কারা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাঘচিকে সরাসরি ফোন করে জানিয়েছেন, তুরস্কের আকাশসীমায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

আঙ্কারার কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ কমান্ড কাঠামোতে বিশৃঙ্খলা অথবা ন্যাটোর কুচুরিক রাডার ঘাঁটির কার্যকারিতা যাচাই করার উদ্দেশ্যেই এই হামলাগুলো চালানো হয়ে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, এই রাডার ঘাঁটিটি ইউরোপের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইরান থেকে ইউরোপের দিকে ধেয়ে আসা যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ট্র্যাকিং করার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং কুচুরিক রাডার ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটো তড়িঘড়ি করে জার্মানির রামস্টাইন ঘাঁটি থেকে অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট পিএসি-থ্রি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের মালানতিয়ায় মোতায়েন করেছে। এর আগে তুরস্কে মোতায়েন থাকা স্প্যানিশ প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থাগুলো বর্তমানের এই অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে পর্যাপ্ত ছিল না। নতুন এই সিস্টেম মোতায়েনের ফলে পূর্ব তুরস্ক এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হলো। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সাম্প্রতিক এই তৎপরতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা কৌশলকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here