যুদ্ধের সময়সীমা নির্ধারণ করবে কে?  ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্র

0
যুদ্ধের সময়সীমা নির্ধারণ করবে কে?  ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং এর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের পক্ষ থেকে আসা বার্তায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা যার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতন ঘটবে। তিনি বলেন, কেবল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা বা সরকারকে দুর্বল করাই এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য নয়। এই সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ইরান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনো বিরোধের কথা বলেননি। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নিজেদের জনগণকে জানানো হচ্ছে, এই লক্ষ্য অর্জনে যত সময় প্রয়োজন তারা তত সময়ই নেবে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই যুদ্ধকে ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য জীবনের সেরা সুযোগ বলেও উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ এই যুদ্ধে অংশ নিতে আগ্রহী থাকবে ততক্ষণ ইসরায়েলের উচিত ইরানে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি করা।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তা তেহরানই নির্ধারণ করবে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের সেনাবাহিনী দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তেহরান থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, তিনি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি হামলার লক্ষ্যবস্তু পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে অবস্থান করার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শুনেছেন।

এদিকে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি আরও উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের দাবি জানিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে।

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, সরকার ইরানের সঙ্গে কোনও অন্তহীন যুদ্ধ চায় না। জেরুজালেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার সঠিক সময় নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। তবে যুদ্ধ কখন শেষ হতে পারে সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

কিংস কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত যুদ্ধের শর্ত নির্ধারণের চেষ্টা করবে এবং দাবি করবে যে ইরানকে যথেষ্ট দুর্বল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা জয় দাবি করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।

তবে তার মতে, উত্তেজনার নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত ইরানের হাতেই রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এই সংঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের সম্পর্ক, হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কীভাবে পড়বে তা এখনই বলা কঠিন।

অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, এসব বিষয় দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি তৈরি করতে পারে এবং এর সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী যে কৌশলগত অর্জনের কথা বলছে তার সরাসরি সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।

সোর্স
আল জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here