ষাটের দশকের উত্তাল দিনগুলোর প্রতিনিধি, হিপি সংস্কৃতির আইকন এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কণ্ঠস্বর ‘কান্ট্রি’ জো ম্যাকডোনাল্ড শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত রবিবার ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলেতে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যু হয় এই প্রখ্যাত রকস্টারের। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জো ম্যাকডোনাল্ডের নাম উচ্চারিত হলেই অবধারিতভাবে চলে আসে তার কালজয়ী গান ‘আই-ফিল-লাইক-আই-অ্যাম-ফিক্সিন-টু-ডাই র্যাগ’-এর কথা। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক উডস্টক উৎসবে কয়েক লাখ মানুষের সামনে গাওয়া এই গানটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদী সংগীত বা ‘অ্যান্থেম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার ব্যান্ড ‘কান্ট্রি জো অ্যান্ড দ্য ফিশ’-এর সঙ্গে করা সেই পরিবেশনা এবং বিশেষ ‘চ্যান্ট’ বা স্লোগানটি আজও বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে। এই গানের জন্য তাকে আইনি জটিলতা ও পেশাদারি বাধার মুখেও পড়তে হয়েছিল, তবু তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
১৯৪২ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্ম নেওয়া জো বড় হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। তার বাবা-মা ছিলেন বামপন্থী আদর্শের অনুসারী, যারা জোসেফ স্ট্যালিনের নামানুসারে ছেলের ডাকনাম রেখেছিলেন ‘জো’। আশির দশকের শুরুতে নৌবাহিনীতে কাজ করার পর তিনি বার্কলের সংগীত ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। জেনিস জপলিন থেকে শুরু করে গ্রেটফুল ডেড-এর মতো সমসাময়িক বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে তার ছিল নিবিড় সখ্য। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও তিনি সেনাদের প্রতি সব সময় সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং নব্বইয়ের দশকে বার্কলেতে ভিয়েতনাম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে চারবার বিবাহিত জো পাঁচ সন্তান ও চার নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে আমেরিকান রক ও ফোক মিউজিকের একটি অধ্যায়ের অবসান হলো। ‘ইলেকট্রিক মিউজিক ফর দ্য মাইন্ড অ্যান্ড বডি’-র মতো কালজয়ী অ্যালবাম বা ‘সেভ দ্য হোয়েলস’-এর মতো পরিবেশবাদী গানের মাধ্যমে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। উডস্টকের সেই মঞ্চ থেকে শুরু করে বার্কলের রাজপথ—সবখানেই তার প্রতিবাদী সুর অনুরণিত হবে আরও বহু বছর।
সূত্র: সিএনএন

