গত সপ্তাহান্তে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ইউএস-ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
৭ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার এক সপ্তাহ পার হলেও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এই সংঘাত আরও তীব্রতর হচ্ছে। শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানীতে নতুন করে শক্তিশালী বোমাবর্ষণের ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩৩২ জনে।
ইরানে বর্তমান পরিস্থিতি:
সামরিক হামলা ও হতাহত: মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ৩,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং ৪৩টি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছ থেকে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এটি ছাড়া কোনো সমঝোতা হবে না।
সমুদ্রপথের হুমকি: ইরানি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে ‘হরমুজ প্রণালী’ খোলা আছে, তবে তারা সতর্ক করেছে যে কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি জাহাজ সেখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইউরোপের প্রতি হুঁশিয়ারি: ইরানের উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী সতর্ক করেছেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যোগ দেয়, তবে তারাও ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হয়ে উঠবে।
রাশিয়ার সমর্থন: প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে কথা বলেছেন এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানকে সহায়তা করছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উপসাগরীয় দেশসমূহের অবস্থা:
কাতার, কুয়েত ও ইউএই: এই তিনটি দেশই তাদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে। কাতার জানিয়েছে তারা ১০টি ড্রোনের মধ্যে ৯টিই ভূপাতিত করেছে।
সৌদি আরব: রাজধানী রিয়াদের কাছে একাধিক ড্রোন প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাজ্যের সমর্থন: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রয়োজনে সৌদি আরবকে রক্ষায় ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
ইসরায়েলে পরিস্থিতি:
ইরানি হামলা: ইরান ক্রমাগত ইসরায়েল লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, যার ফলে তেল আবিব এবং নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলে সাইরেন ও বিস্ফোরণ শোনা যাচ্ছে।
হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা: লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিক্রিয়া ও খরচ:
যুদ্ধের মেয়াদ: হোয়াইট হাউস ধারণা করছে এই অভিযান চার থেকে ছয় সপ্তাহ চলতে পারে।
ব্যয়: ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র প্রথম ১০০ ঘণ্টায় আনুমানিক ৩.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা দৈনিক প্রায় ৮৯১ মিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন চারগুণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
লেবানন ও ইরাক:
লেবাননে সংঘাত: দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ২১৭ জন নিহত হয়েছে। বৈরুতের স্কুলগুলোকে এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইরাক: ইরাকি কুর্দিস্তানে একটি হোটেলে ড্রোন হামলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ইরান-পন্থী গোষ্ঠীগুলো এই হামলার পেছনে রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

