ভালুকায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অনিয়মের অভিযোগ

0
ভালুকায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অনিয়মের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সেবা দিতে অনীহা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয়দের দাবি, তিনি ভালুকায় যোগদানের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম তদারকিতে উদাসীন থাকায় সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তার অদক্ষতার কারণে স্মার্ট প্রশাসনিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে ইউএনও’র কাছে গেলে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় উপকারভোগীদের। স্মার্ট প্রশাসনিক সেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করেন, ইউএনও ফিরোজ হোসেন প্রায়ই সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন না এবং বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য চাইলে সাড়া দেন না। এতে প্রশাসনের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটছে। তারা আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না।

এদিকে সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করে সরকার। নির্দেশনায় বলা হয়েছে- সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিপত্র জারি করলেও বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে বাধ্য নন এবং এ বিষয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ক্রয়াদেশ ছাড়াই লক্ষাধিক টাকার কাজ সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনকালীন সময়ে ক্রয়াদেশ ছাড়াই ১০৭টি ভোটকেন্দ্রে নিম্নমানের সিসি ক্যামেরা কেনার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী- এইচ এ কম্পিউটার নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ মূল্যে নিম্নমানের সিসি ক্যামেরা কেনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন স্কুল শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ভালুকা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস. এম. শাহাজাহান সেলিম বলেন, শিল্পাঞ্চল ভালুকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা। এমন গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় একজন অসহযোগিতাপূর্ণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকা দুঃখজনক। সাধারণ মানুষের ফোন তো তিনি ধরেনই না, এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের সংরক্ষিত নম্বর থেকেও ফোন ধরেন না। এতে সাধারণ মানুষ সমস্যার সমাধান পাচ্ছে না এবং প্রশাসনের প্রতি বিরূপ ধারণা তৈরি হচ্ছে।

সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সংবাদের তথ্যের জন্য তাকে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেন না। অনেক সময় সকালে ফোন করলে রাতে ফোন ব্যাক করেন। ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’ স্লোগানের বাস্তব প্রতিফলন তার কাজে দেখা যায় না। আরেক সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সুমন বলেন, একটি সংবাদের বক্তব্য নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে তাকে অসংখ্যবার ফোন করলেও তিনি অনেক সময় ফোন রিসিভ করেন না, ফলে সময়মতো সংবাদ পাঠাতে বিঘ্ন ঘটে।

সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ মানুষ কোনো সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে গেলে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এতে ভালুকার মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউএনও কার্যালয়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে বাধ্য নন। সাধারণ মানুষ সেবা না পাওয়া ও নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এসব বিষয়ে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দেবেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here