যুগলকে শেকলে বেঁধে নির্যাতন, ‘আইয়্যামে জাহিলিয়াতের বর্বরতা’ বললেন পুলিশ সুপার

0
যুগলকে শেকলে বেঁধে নির্যাতন, ‘আইয়্যামে জাহিলিয়াতের বর্বরতা’ বললেন পুলিশ সুপার

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রেমের টানে আসা এক যুবক ও স্থানীয় এক তরুণীকে দিনভর শেকল দিয়ে বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সলিলপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী খড়ের দাইর গ্রামে মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক যুগেও এমন আদিম ও অমানবিক শাস্তির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে কবিরুলের সঙ্গে ভাড়ইমারী গ্রামের সুমি (ছদ্মনাম) নামের এক তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার রাতে কবিরুল ওই তরুণীর বাড়িতে আসেন। বুধবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ওই ঘর থেকে দুজনকে আটক করেন।

আটকের পর উত্তেজিত গ্রামবাসী আইন নিজের হাতে তুলে নেন। যুবক ও তরুণীকে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে এবং পায়ে লোহার শেকল পরিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের এভাবে জনসম্মুখে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে অপদস্থ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপস্থিত জনতা তাদের গালিগালাজ ও অপমান করলেও কেউ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। সচেতন মহল একে ‘চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে।

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, এভাবে ছেলে-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে শেকল পরিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা অনেক সময় অতি উৎসাহী হয়ে কাউকে অপমান করে তৃপ্তি পাই, যা অনেকটা ‘আইয়্যামে জাহিলিয়াত যুগের বর্বরতা’র মতো। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে তারা সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তার বিচারের দায়িত্ব আইনের; সাধারণ মানুষের এভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় সাজা দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here