যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ ঘিরে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ইরান ইউরোপীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন এই যুদ্ধে যুক্ত না হয়। তবে পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক স্থাপনায় আঘাতের ঘটনায় ইরানের সমালোচনায় ইউরোপ একমত হলেও, যুদ্ধের সূচনাকারী মার্কিন-ইসরায়েলি পদক্ষেপ নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া অস্পষ্ট ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপ ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে যেমন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একক অবস্থান নিয়েছিল, এখানে তেমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না।
স্পেন ইতোমধ্যে তাদের ঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান সরিয়ে দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাদ্রিদের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যকে সমর্থন করেছেন।
তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা সন্ত্রাসে জড়িত এবং এর পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ঘাঁটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এটি কেবল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার জন্য সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উত্তেজনা প্রশমন এবং ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচির স্থায়ী অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
এদিকে গ্রিস সাইপ্রাসকে রক্ষায় চারটি এফ-১৬ ভাইপার যুদ্ধবিমান ও দুটি ফ্রিগেট পাঠিয়েছে। ফ্রান্সও অ্যান্টি-মিসাইল ও অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটেনও তাদের ঘাঁটি সুরক্ষায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলেও ন্যাটো (উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা)-এর সদস্য নয়। ফলে তারা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা দাবি করতে পারে না। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির ৪২.৭ অনুচ্ছেদ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে, যা পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে।
পরিস্থিতি এমন এক সময় সৃষ্টি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে ইউরোপ থেকে সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে এবং ইউরোপ নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো জোরদারের চেষ্টা করছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও কূটনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

