কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। একদিকে পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত প্রোটিয়ারা, অন্যদিকে নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া কিউইরা। গ্রুপ পর্বে আমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারতে হয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। ফলে এই ম্যাচ মিচেল স্যান্টনারের দলের কাছে শুধু সেমিফাইনাল নয়, প্রতিশোধেরও সুযোগ।
তবে কাজটা মোটেও সহজ নয়। এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকার টপ অর্ডার যথেষ্ট শক্তিশালী।মার্করাম, কুইন্টন ডি কক, রায়ান রিকলটন, ডেভিড মিলার ও তরুণ ট্রিস্টান ব্রেভিস যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। বোলিং বিভাগেও রয়েছে বৈচিত্র্য ও গতি। আনরিখ নোকিয়া, কাগিসো রাবাডা, লুঙ্গি এনগিডির সঙ্গে রয়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনার কেশব মহারাজ ও অলরাউন্ডার মার্কো জানসেন।
ইডেনের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। গত রবিবার ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে দেখা গেছে, আগে ব্যাট করলে কমপক্ষে ২২০ রান পার স্কোর হতে পারে। তার কম হলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে শিশির বড় ভূমিকা নিতে পারে।
নিউজিল্যান্ড দলে টিম সেইফার্ট, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস ও ড্যারিল মিচেলের মতো ব্যাটার থাকলেও সুপার এইটে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে জয়ের পরিস্থিতি ধরে রাখতে পারেনি তারা। শেষ তিন ওভারে ৪২ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। স্পিনার ইশ সোধি ও অফ স্পিনার ফিলিপস মার খেয়েছিলেন। তাই স্যান্টনারের স্পষ্ট বার্তা,‘সেমিফাইনালে কোনও ভুলের সুযোগ নেই। ছোট ভুলও বড় মূল্য চোকাতে বাধ্য করতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আগে খেলেছি, তাই তাদের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা আছে।’
বিশেষজ্ঞদের চোখে এই ম্যাচে সামান্য এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। দু’বছর আগে বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে অল্পের জন্য বিশ্বকাপ হাতছাড়া করেছিল তারা। তবে ‘চোকার্স’ তকমা ঝেড়ে ফেলে গত বছর লর্ডসে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতে প্রোটিয়ারা। এবার লক্ষ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডও ইতিহাসের হাতছানি দেখছে। ২০২১ সালে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জেতা হয়নি। মোট পাঁচবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে কিউইরা, কিন্তু শেষ চারের বাধা পেরিয়েছে মাত্র একবার।
দক্ষিণ আফ্রিকাও চতুর্থবার সেমিফাইনালে উঠল। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে শেষ চারে হারের পর ২০২৪ সালে ফাইনালে পৌঁছেও শিরোপা জেতা হয়নি। ফলে দুই দলই এবার নতুন ইতিহাস লেখার লক্ষ্য নিয়ে নামছে ইডেনে।

