যুদ্ধ চলুক, কিন্তু আত্মসমর্পণ নয়। ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এমনটাই মনে করছেন কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের কৌশল হচ্ছে যতক্ষণ না কেউ নতি স্বীকার করছে, ততক্ষণ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে টার্গেট করে যাওয়া।
পারসি এই কৌশলকে সরাসরি ভুল গণনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরী এনে চাপ সৃষ্টি করলে ইরানিরা আত্মসমর্পণে রাজি হবে। কিন্তু তার ভাষায়, এই বিশেষ ধর্মতাত্ত্বিক শাসনব্যবস্থা যুদ্ধের চেয়ে আত্মসমর্পণকে অনেক বেশি ভয় পায়।
তার ব্যাখ্যা, ইরান সরকার বিশ্বাস করে তারা যুদ্ধ থেকে টিকে ফিরতে পারে। কিন্তু আত্মসমর্পণ করলে তাদের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। পারসি বলেন, নতি স্বীকার করবে এমন কাউকে খুঁজে পেতে হলে শুধু নেতৃত্বের স্তর সরালেই হবে না, পুরো দেশকেই ধ্বংস করতে হবে।
তিনি সতর্ক করেন, ট্রাম্প প্রশাসন জানে না এটি করতে কত সময় লাগবে, এমনকি তা আদৌ সম্ভব কি না। এই সময়ের মধ্যে ইরানের কৌশল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন সৈন্য, বিশ্ব অর্থনীতি, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়া, যাতে ট্রাম্পের জন্য অভিযান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
এর আগে গতকাল রবিবার (১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ড, ইরানের সেনাবাহিনী, পুলিশকে অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি পূর্ণ দায়মুক্তি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, অন্যথায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। তার ভাষায়, দৃশ্যটা মোটেও সুখকর হবে না।
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের এলিট রিভল্যুশনারি গার্ডস IRGC-এর সদর দপ্তর ধ্বংস করেছে।
খামেনির মৃত্যুর এক দিন পর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে। মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব অর্থনীতি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। শিপিং সেক্টর, বিমান চলাচল, তেলের বাজারে এর প্রভাব স্পষ্ট।
আল-জাজিরা/আরব নিউজ

