ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় হাইফার কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রতিরোধের নেতৃত্ব সর্বদা এটি নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রাখা এবং আমাদের নেতা, যুবক ও জনগণকে হত্যা করার ঘটনা আমাদের নিজেদের রক্ষা করার এবং যথাযথ সময়ে ও স্থানে প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার দেয়।’ তারা আরও বলেছে, ‘ইসরায়েলি শত্রু এই আগ্রাসন বন্ধের জন্য এবং অধিকৃত লেবাননের ভূখণ্ড থেকে পিছু হটার জন্য কোনো সতর্কতামূলক প্রতিক্রিয়া ছাড়া তাদের পনের মাসব্যাপী আগ্রাসন চালিয়ে যেতে পারে না।’
ইরান-ঘনিষ্ঠ লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি স্থানীয় সময় আজ সোমবার ভোরে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে, ‘লেবানন ও তার জনগণের প্রতিরক্ষায়’ এবং ‘বারবার ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায়’ এই হামলা চালানো হয়েছে।
এই সহিংসতা এক বড় ধরণের উত্তজনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা মূলত একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং অন্যদিকে ইরান ও তার মিত্রদের মধ্যে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, লেবাননজুড়ে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। প্রথমে বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, হিজবুল্লাহর এই হামলা ‘দায়িত্বহীন ও সন্দেহজনক কাজ যা লেবাননের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে বিপন্ন করে এবং ইসরায়েলকে তার আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেয়।’
এক্সে সালাম বলেন, ‘আমরা দেশকে নতুন কোনো হঠকারিতার দিকে টেনে নিয়ে যেতে দেব না এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে ও লেবাননের জনগণকে রক্ষা করতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেব।’

