মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতির জেরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার থেকে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশগামী কয়েক হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে।
তবে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, ৫৪টি ফ্লাইট রিশিডিউল (পুনর্নির্ধারণ) করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে ধাপে ধাপে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে এমিরেটসের একটি, গালফ এয়ারের একটি, ফ্লাইদুবাইয়ের একটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার তিনটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ছয়টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১টি ফ্লাইট ছিল। গতকাল রবিবার বাতিল করা ফ্লাইটের সংখ্যা ৪০টি। এর মধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, এমিরেটসের পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুটি, ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি, কাতার এয়ারওয়েজের দুটি, সালাম এয়ারের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ারের আটটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের চারটি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি ফ্লাইটের শিডিউল ছিল বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আজ ২ মার্চের (সোমবার) ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটসের পাঁচটি এবং গালফ এয়ারের দুটি ফ্লাইট রয়েছে।
এদিকে গতকাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রাফিক সিগন্যাল মনিটরিং সেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে স্থগিত হওয়া ৫৪টি ফ্লাইটের সময় পুনর্নির্ধারণ (রিশিডিউল) করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কয়েকটি নির্ধারিত গন্তব্যের ফ্লাইটও ছিল। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গতকাল থেকে ধীরে ধীরে ফ্লাইট কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো রিশিডিউল করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা পর্যাপ্ত সময় পান। আজ সোমবারের মধ্যে স্থগিত ফ্লাইটের অধিকাংশ যাত্রীকে তাদের গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

