যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা খামেনির মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছে। এ সমন্বিত হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া এ হামলায় আরো নিহত হয়েছেন আলী শামখানি, আব্দুর রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ও মোহাম্মদ পাকপুর।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির হত্যাকাণ্ডকে মুসলিম বিশ্ব, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একটি ‘সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরান শাসন করা এ নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে পেজেশকিয়ান এক লিখিত বার্তায় বলেন, এ বিয়োগান্তক ঘটনাটি বর্তমান ইসলামী বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ হামলায় আরো কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব এবং খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলী শামখানি। ৭০ বছর বয়সী এ নেতা গত শুক্রবার শেষ হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচী সংক্রান্ত আলোচনার তদারকি করছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনেও ইসরায়েলি হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আব্দুর রহিম মৌসাভিও এ হামলায় নিহত হয়েছেন। গত বছর জুনে ইসরায়েলি হামলার পরপরই খামেনি তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। মৌসাভি ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল, ড্রোন সিস্টেম এবং মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচীর অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালের বিক্ষোভে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
পজেশকিয়ান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে তিনি বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের সংঘাতের সময় তিনি হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানের ওপর হামলা হলে ওই অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সে সময় তার মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও পরবর্তীতে তিনি বেঁচে আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরও নিহতদের তালিকায় রয়েছেন। গত বছরের জুনে খামেনি তাকে এ বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। আশির দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ প্রবীণ কমান্ডার দীর্ঘ ১৬ বছর আইআরজিসির পদাতিক বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন। তার মৃত্যু ইরানের সামরিক কাঠামোর জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স ও আল জাজিরা

