ইরানে রাষ্ট্রক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষী, রেজা পাহলভি কে?

0
ইরানে রাষ্ট্রক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষী, রেজা পাহলভি কে?

ইরানের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভি। সর্বশেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির জ্যেষ্ঠ পুত্র তিনি। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে তিনি উপশম হিসেবে বর্ণনা করে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত রেজা পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খামেনিকে আমাদের সময়ের এক রক্তপিপাসু স্বৈরশাসক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র কার্যত তার অন্তিম সময়ে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

রেজা পাহলভি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, খামেনির কোনো উত্তরসূরি নিয়োগের চেষ্টা শুরু থেকেই ব্যর্থ হবে। ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে তার ভাষ্য, এটি একটি মহৎ জাতীয় উৎসবের সূচনা হতে পারে, তবে লড়াই এখনও শেষ হয়নি।

১৯৬০ সালের অক্টোবরে তেহরানে জন্ম নেওয়া রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সময় যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। সেই বিপ্লবে তার বাবা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির রাজতন্ত্র উৎখাত হয়। পরবর্তী সময়ে পরিবারসহ তাকে নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়। তার বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মিশরে মারা যান।

পরবর্তী কয়েক দশকে পাহলভি পরিবার ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির মুখে পড়ে। তার ছোট বোন ও ছোট ভাই আত্মহত্যা করেন। ফলে প্রতীকীভাবে রাজবংশের প্রতিনিধিত্ব এখন তার কাঁধেই। বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছের এক উপশহরে বসবাস করেন। তার স্ত্রী ইয়াসমিন এবং তিন কন্যা নূর, ইমন, ফারাহকে নিয়ে তিনি সেখানে জীবনযাপন করছেন।

২০২৫ সালে ইসরাইলের বিমান হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত তিনি। সে সময় ১০০ দিনের একটি পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

তবে তার উত্তরাধিকার বিতর্কহীন নয়। একদিকে কেউ কেউ পাহলভি শাসনামলকে দ্রুত আধুনিকায়ন ও পশ্চিমা সম্পর্কের সময় হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে সেন্সরশিপ, ভিন্নমত দমন এবং গোয়েন্দা সংস্থা সাভাকের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও সেই সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

১৯৮০ সালে কায়রোতে প্রতীকী রাজ্যাভিষেক করে নিজেকে শাহ ঘোষণা করলেও তার রাজনৈতিক প্রভাব ছিল সীমিত। সমালোচকদের মতে, এটি তার গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তিনি সহিংসতার পথ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মুজাহিদিন-ই খালক, এমইকে থেকে দূরে থেকেছেন। বরাবরই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণে গণভোটের কথা বলেছেন।

২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় তিনি আন্তর্জাতিক আলোচনায় ফের আসেন। ২০২৩ সালে ইসরাইল সফর এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ তাকে নতুন বিতর্কে ফেলেছিল।

বর্তমানে তিনি নিজেকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন। তার দাবি, ইরানকে মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন এবং নারীর সমান অধিকারের পথে এগিয়ে নেওয়াই তার লক্ষ্য। রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত জনগণের গণভোটে হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here