দিনাজপুরের হাকিমপুরে স্বামীকে তালাকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীকে ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে নাক কেটে ঝুলে পড়ে মারাত্মক আহত হয় স্ত্রী। এ ঘটনায় স্থানীয়রা স্বামীকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। অন্যদিকে আহত স্ত্রী রিভামনিকে উদ্ধার করে প্রথমে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শনিবার হাকিমপুর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
পরে মেয়ের মামা জাকারিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে আসামি শাহিনুর ইসলাম ওরফে শাহিনকে রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা পরিবারের উদ্বৃতি দিয়ে জানায়, প্রায় দুই বছর আগে হাকিমপুর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের মেয়ে রিভামনির (২০) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরনজী গ্রামের দুই সন্তানের জনক শাহিনুর ইসলাম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। শাহিনুর আগের স্ত্রী ও সন্তানের বিষয়টি গোপন রাখেন। এরপর গত বছরের মার্চ মাসে রিভামনিকে গোপনে বিয়ে করেন। মেয়ের বাপের বাড়িতে থেকেই শাহিনুর সংসার করে আসছিলেন। সম্প্রতি শাহিনুরের পূর্বের স্ত্রী সন্তানের বিষয়টি রিভমনির পরিবারে জানাজানি হলে গত বুধবার রিভামনি স্বামীকে তালাক দেন। এতে শাহিনুর ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। শনিবার দুপুরে বাড়িতে কেউ ছিল না।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হুমায়ন কবির জানান, শনিবার দুপুর একটার দিকে রিভামনি (২০) নামে একজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। তার শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া নাক কেটে ঝুলে পড়ে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ওই স্বামী শাহিনুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। মেয়ের মামা জাকারিয়া মামলা দায়ের করলে আসামি শাহিনুর ইসলাম ওরফে শাহিনকে রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

