দাসুন শানাকার শর্ট বল আলতো পুল করে ডিপ ফাইন লেগ দিয়ে সীমানা ছাড়া করলেন সাহিবজাদা ফারহান। একটি চার, কিন্তু তাতেই বদলে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ের পাতা। সেই শটেই তিনি ছাড়িয়ে গেলেন বিরাট কোহলিকে, গড়ে তুললেন এক আসরে সর্বোচ্চ রানের নতুন ইতিহাস।
ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে সুপার এইট পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে নামার আগে ফারহানের সংগ্রহ ছিল ২৮৩ রান। কোহলির ৩১৯ রানের রেকর্ড টপকাতে প্রয়োজন ছিল ৩৭। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারেই সেটি নিজের করে নেন পাকিস্তানের এই ওপেনার।
২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৬ ইনিংসে ৩১৯ রান করেছিলেন কোহলি। সেই রেকর্ড টিকল ১২ বছর। পাকিস্তানের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এতদিন ছিল বাবর আজমের (৩০৩ রান, ২০২১)। এবার সেটিও পেছনে ফেললেন ফারহান।
দুই সেঞ্চুরির অনন্য কীর্তি
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফারহান প্রথম ৫০ স্পর্শ করেন ৩২ বলে, শতক পূর্ণ করেন ৫৯ বলে। তবে শতকের পর আর এগোতে পারেননি, পরের বলেই বিদায়। তবু ইতিহাসে জায়গা পাকা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে দুই সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার এখন তিনি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে একাধিক সেঞ্চুরি আছে কেবল দুজনের—ফারহান ও ক্রিস গেইল।
চলতি আসরে ৬ ইনিংসে ফারহানের রান ৩৮৩, স্ট্রাইক রেট ১৬০.২৫। মেরেছেন ৩৭টি চার ও ১৮টি ছক্কা। এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে। এর আগে ১৭টি ছক্কার কীর্তি ছিল শিমরান হেটমায়ার ও নিকোলাস পুরানের।
জুটিতেও বিশ্বরেকর্ড
শুধু ব্যক্তিগত নয়, দলীয় রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন ফারহান। ফখর জামানকে সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে তুলেছেন ৯৫ বলে ১৭৬ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে এটিই এখন সর্বোচ্চ জুটি।
ফারহানের শতক ও ফখরের ৮৪ রানে ভর করে পাকিস্তান তোলে ৮ উইকেটে ২১২ রান। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকে রাখার সমীকরণ সামনে সালমান আলি আগার দল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ রান
- সাহিবজাদা ফারহান (পাকিস্তান) – ৩৮৩ রান (২০২৬)
- বিরাট কোহলি (ভারত) – ৩১৯ রান (২০১৪)
- তিলকরত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা) – ৩১৭ রান (২০০৯)
- বাবর আজম (পাকিস্তান) – ৩০৩ রান (২০২১)
- মাহেলা জয়াবর্ধনে (শ্রীলঙ্কা) – ৩০২ রান (২০১০)

