পাকপুর ইরানের জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ?

0
পাকপুর ইরানের জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ?

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসির অন্যতম প্রভাবশালী কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরের মৃত্যুর খবর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরপরই আইআরজিসিতে যোগ দেওয়া পাকপুর ছিলেন ইরানের সামরিক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।

কুর্দি বিদ্রোহ দমন থেকে শুরু করে আট বছরের দীর্ঘ ইরান-ইরাক যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে দেশটির সামরিক বাহিনীতে অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছিল। 

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আর্মি অপারেশনস কমান্ড, ৮ম নাজাফ ডিভিশন এবং ৩১তম আশুরা ডিভিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম ইরানে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পাকপুর সবসময়ই আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দিতেন। বিশেষ করে ‘হামাসে’ ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের শক্তিমত্তা প্রদর্শনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মাত্র এক মাস আগেই তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন , ইরানের বাহিনী এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত এবং তাদের আঙুল এখন ট্রিগারে রয়েছে। তার মতে, যেকোনো ধরনের ভুল হিসাবনিকাশ প্রতিপক্ষের জন্য চড়া মূল্য বয়ে আনবে। এমন একজন অভিজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ কমান্ডারের মৃত্যুর খবর যদি নিশ্চিত হয়, তবে তা ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে।

বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকপুরের মতো একজন প্রভাবশালীর মৃত্যু কেবল একটি সামরিক ক্ষতি নয়, বরং এটি ইরানের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা। যদিও এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য মেলেনি, তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরান কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here