পাহাড়ে এখন আমের মুকুলের মৌসুম। সবুজ পাতার আড়ালে থোকায় থোকায় ঝুলছে সোনালি মুকুল। মিষ্টি সুবাসে ভরে উঠেছে চারপাশ। মুকুলের আধিক্য দেখে বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তবে গুটি ধরার আগে ঝরে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার তাগিদ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির ১০টি উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। পাহাড়ি এলাকার আম স্বাদে বেশি মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে চাষের পরিমাণ।
আমের জন্য বিখ্যাত নানিয়ারচর উপজেলাকে জেলার ‘আমের রাজধানী’ বলা হয়। অনুকূল জমি ও সঠিক সেচব্যবস্থার কারণে অন্য উপজেলার তুলনায় এখানে ফলন বেশি হয়। এবারও গাছে গাছে ব্যাপক মুকুল এসেছে। প্রায় প্রতিটি গাছই সোনালি মুকুলে ছেয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ বছর আম্রপালি, রাঙ্গুয়াই, ডিম আম, বারি আম, ব্যানার মেঙ্গো ও কিউজাই জাতের আমগাছে বেশি মুকুল এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু মুকুল বেশি হলেই ফলন ভালো হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক কৃষক সময়মতো স্প্রে না করায় গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগে অবহেলা করলে মুকুল গুটি হওয়ার আগেই ঝরে যেতে পারে। আবার বৃষ্টি না হলে তীব্র রোদেও মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই গাছে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকেরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

