চীন সফরে জার্মান চ্যান্সেলর, নিবিড় অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রত্যাশা

0
চীন সফরে জার্মান চ্যান্সেলর, নিবিড় অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রত্যাশা

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস বুধবার প্রথমবারের মতো চীন সফরে গিয়ে অংশীদারিত্ব ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্বে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং উন্নত ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই সফর করছেন।

জার্মানি চীনের সঙ্গে নিবিড় এবং অবাধ সহযোগিতা চায় বলে জানিয়েছেন তিনি। তিন দিনের এ সফরে ব্যবসায়ী নেতাদের বিশাল এক প্রতিনিধি দল ম্যার্ৎসের সঙ্গে রয়েছে। বুধবার বেইজিংয়ে ম্যার্ৎসকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস।

বৈঠকে শি জিনপিং জার্মানির চ্যান্সেলর ম্যার্ৎসের বক্তব্যকে স্বাগত জানান এবং জার্মানির সঙ্গে যৌথ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “চীন ও জার্মানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির দেশ এবং দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। সেকারণে দুই দেশেরই উচিত সহযোগিতার মধ্য দিয়ে আস্থা দৃঢ় করা, একসঙ্গে বহুপাক্ষিকতা এবং মুক্ত বাণিজ্য সুরক্ষিত রাখা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ও সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করা।”

জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্ৎসের আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে। তিনি চীনের ফার্মগুলোকে জার্মানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করেছেন। তবে বলেছেন, দুপক্ষকেই বিচক্ষণ থাকতে হবে।

ম্যার্ৎস বলেন, “আজ আমরা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এতেই সুযোগের দুয়ার খোলে। তবে এখানে ঝুঁকিও আছে। আমরা উভয়পক্ষের স্বার্থে এই ঝুঁকি এড়াতে চাই।”

চীনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সফরের পর জার্মানির চ্যান্সেলর এই সফরে গেলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ বাড়তে থাকার মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতারা চীনের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক মজবুত করার দিকে ঝুঁকছেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি এর সঙ্গে বৈঠকের পর জার্মান চ্যান্সেলর জানিয়েছেন, চীন ইউরোপীয় বিমান সংস্থা এয়ারবাস থেকে আরেও ১২০টি বিমান কিনবে ৷

ম্যার্ৎস বলেন, “চীনা নেতৃত্ব এয়ারবাস থেকে আরেও বিমানের অর্ডার দেবে ৷ মোট অর্ডারে আরও ১২০টি অতিরিক্ত বিমান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

বৈঠকে শি জিনপিং দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, “চীন ও জার্মানির মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যৌথ প্রয়াসের জন্য আমি জার্মানির চ্যান্সেলরের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে ইচ্ছুক।”

চীন-জার্মান সম্পর্ককে সবসময় ‘অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন’ উল্লেখ করে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশেরই এখন নিজেদের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here