ভারতের উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের এক গুরুকুল স্কুলের পড়ুয়াদের আবদার এবং মান-অভিমান নিয়ে এবার মুখ খুললেন বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব। জেলবন্দি থাকাকালীন নিজেদের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে প্রিয় অভিনেতাকে সাহায্য পাঠিয়েছিল এই খুদে পড়ুয়ারা। কিন্তু জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রাজপাল তাদের সঙ্গে দেখা না করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেয় তারা।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অভিনেতা জানিয়েছেন যে, তিনি খুব শিগগিরই এই শিশুদের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাদের ভালোবাসার যোগ্য সম্মান দেবেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন রাজপাল যাদব আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত একটি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। সেই সময় শাহজাহানপুরের ‘গুরুকুল সেবা ট্রাস্ট’-এর প্রায় ৪০ জন পড়ুয়া তাদের জমানো টাকা একটি মাটির ব্যাংকে ভরে ডাকযোগে অভিনেতার পৈত্রিক ভিটে কুন্দ্রাতে পাঠিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ছিল একটি আবেগঘন চিঠি, যেখানে তারা রাজপালকে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর একবার দেখা করার অনুরোধ জানিয়েছিল।
সম্প্রতি জেল থেকে ফেরার পর রাজপাল তাদের কোনো খোঁজ না নেওয়ায় একটি ২৯ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তায় পড়ুয়ারা বলে, নমস্তে রাজপাল ভাইয়া, আপনি বাড়ি ফিরেছেন জেনে আমরা খুশি। কিন্তু আমরা যে সাহায্য পাঠিয়েছিলাম তা কি আপনি পেয়েছেন? পেয়ে থাকলে আমাদের চিঠির উত্তর দিলেন না কেন? আমরা আপনার ওপর খুব অভিমান করেছি।
এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পিটিআই-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রাজপাল যাদব। তিনি জানান যে, দীর্ঘ সময় পর বাড়ি ফিরে তিনি এখনো পরিবারের সঙ্গেই ঠিকমতো সময় কাটিয়ে উঠতে পারেননি। কারা কারা তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই তালিকা তিনি তৈরি করছেন।
অভিনেতা আরও বলেন যে, তিনি গুরুকুলের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী এবং ওই শিশুরা তার নিজের সন্তানের মতো। কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ না রেখে তিনি স্পষ্ট করেন যে, খুব দ্রুত তিনি শাহজাহানপুরে গিয়ে ওই শিশুদের জড়িয়ে ধরবেন এবং তাদের সঙ্গে ছবি তুলবেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে নিজের ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ তৈরির জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল। সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাকে আইনি জটিলতায় জেল খাটতে হয়। প্রিয় অভিনেতার সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে নিজেদের সাধ্যমতো সঞ্চয় পাঠিয়েছিল ওই খুদে ভক্তরা। এখন প্রিয় ‘ভাইয়া’র সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় দিন গুনছে তারা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

