দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পাচারের সময় ৮৩ বস্তা সার আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এ ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুর–গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। পরে জনতা অবরোধ তুলে নেয়।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের আমতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী বাজারের সার ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক (৪২) ও জাহাঙ্গীর আলম ৭টি রিকশাভ্যানে করে ৮৩ বস্তা সার দিনাজপুর কোতোয়ালি সদর থানার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন সারসহ রিকশাভ্যানগুলো আটক করেন এবং সার পাচারের অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেহা তুজ জোহরা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। সার জব্দ করে ব্যবসায়ীদের হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর আলোচনা সাপেক্ষে জনতা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং জব্দ করা সার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, উপজেলায় ২০ জন বিসিসিআই সার ডিলারের বাইরে ২০০৮ সালে ২৭ জন খুচরা বিক্রেতাকে সার বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আটক ব্যক্তিরা তালিকাভুক্ত নন। তালিকাবহির্ভূত খুচরা সার ব্যবসায়ীদের কোনো জরিপ বা তালিকা কৃষি দপ্তরে নেই।
ইউএনও ফাতেহা তুজ জোহরা বলেন, জব্দ করা সার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের জিম্মায় নেওয়া হয়। বুধবার ইউনিয়ন প্রশাসন ও কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় সরকারি ন্যায্যমূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাহমুদুল হককে ৫০ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীর আলমকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

