রংপুরে দুই খাল ঘিরে মশার বংশবিস্তার, অতিষ্ঠ নগরবাসী

0
রংপুরে দুই খাল ঘিরে মশার বংশবিস্তার, অতিষ্ঠ নগরবাসী

প্রকৃতিতে বইছে ফাগুনের হাওয়া। তবে বসন্তের এই সময়ে স্বস্তির বদলে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রংপুর নগরীর বাসিন্দারা। দিন-রাত সর্বত্র মশার কামড়ে নাজেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খালকে ঘিরে মশার বংশবিস্তার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নগরবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি সংস্কার ও পরিষ্কার না করায় পানি স্থির হয়ে আছে। এতে খালগুলো মশা উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নামলেই মশার ঝাঁক ঘরে-বাইরে আক্রমণ করছে। অনেক এলাকায় স্প্রে ও কয়েল ব্যবহার করেও মশা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, শ্যামা সুন্দরী খালটি ঘাঘট নদী থেকে শুরু করে নগরীর ধাপ পাশারীপাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সিপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তাপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা, নূরপুর, বৈরাগীপাড়া হয়ে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় খালটি নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে।

অন্যদিকে কেডিখাল সংলগ্ন বাসিন্দা আব্দুল আজিজ, ওসমান গনিসহ অনেকেই জানান, প্রায় চার কিলোমিটার কেডিখালটিও প্রায় এক যুগে ধরে পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে শ্যামাসুন্দরীর চেয়ে বেশি মশা জন্ম নিচ্ছে এই খালে। 

এছাড়া নগরীর ড্রেন, পুকুর-জলাশয়গুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় সেখানেও উৎপাদন মশা জন্ম নিচ্ছে। দিনে-রাতে সর্বত্র মশার অত্যাচারের কারণে মশাবাহিত রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নগরীর কয়েকটি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা করছেন।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপন মিজানুর রহমান বলেন, এবার মশক নিধনে ব্যাপক কর্মসূূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।  ১০ হাজার লিটার ওষুধ কেনা হয়েছে। ৮০টি নতুন ফগার মেশিন কেনা হয়েছে। এছাড়া ৬৬টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিনও কেনা হয়েছে। পুরোপুরি মশক নিধন অভিযান চলছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here