তিন বলের মধ্যে দুটি চার মেরে কেবল ডানা মেলছিলেন উইল জ্যাকস। কিন্তু এরপরই তিনি আউট হয়ে যান ফুট টস ডেলিভারিতে ক্যাচ দিয়ে। এভাবে উইকেট হারানোয় নিজের ওপর বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। আর সেটিই তাকে তাতিয়ে দেয় বোলিংয়ে ভালো করতে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়কের এই চমকপ্রদ গল্প শোনালেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ১৪৬ রানের পুঁজি নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৫১ রানে হারায় ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে চারটি চারে ১৪ বলে ২১ রান করার পর, চার ওভারে ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচের স্বীকৃতি পান অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার জ্যাকস।
পাল্লেকেলেতে উইকেট ছিল বেশ মন্থর। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে একপর্যায়ে জ্যাকসের রান ছিল ১০ বলে ১৩। এরপর বাঁহাতি পেসার দিলশান মাদুশাঙ্কার তিন বলের মধ্যে দুটি বাউন্ডারি পেয়ে যান তিনি। পরের বলেই ফুল টসে ধরা পড়েন ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে। ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে ব্রুক জানান, আউট হয়ে বিরক্ত ছিলেন জ্যাকস। ব্রুক বলেন, জ্যাকসি তার আউট হওয়ার ধরন নিয়ে বেশ বিরক্ত ছিল, তাই সে আমাকে বলল, যখন সে রেগে থাকে, তখন সবসময় ভালো বোলিং করে। সৌভাগ্যক্রমে, তার শুরুটা দারুণ হয়েছিল।
জ্যাকসের হাতে নতুন বল তুলে দেন অধিনায়ক ব্রুক। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তার প্রথম বলে চার মারেন কামিল মিশারা। পরের পাঁচ বলে আর কোনো রান তিনি দেননি। তৃতীয় ওভারে পাথুম নিসাঙ্কাকে জফ্রা আর্চার ফিরিয়ে দেওয়ার পর, নিজের পরের ওভারে জোড়া শিকার ধরেন জ্যাকস। পরপর দুই বলে কুসাল মেন্ডিস ও পাভান রাত্নায়েকেকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি। হ্যাটট্রিক না হলেও, নিজের পরের ওভারে উইকেট নেন আরেকটি।
ইনিংসের প্রথম আট ওভারের মধ্যে নিজের কোটার চার ওভার বোলিং শেষ করেন ২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ম্যাচ-সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে জ্যাকস বললেন, পাওয়ার প্লেতে বোলিং উপভোগ করেন তিনি।
জ্যাকস বলেন, বল হাতে এই দায়িত্ব (গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিং) পাওয়া আমার খুব ভালো লাগে। আমার মনে হয়, এটা আমাকে খেলায় প্রভাব রাখতে এবং আরও ভালো পারফর্ম করতে উৎসাহিত করে। আমি এই দায়িত্ব পছন্দ করি এবং পাওয়ার প্লেতে অনেক বোলিং করেছি। তাই আমার কাছে এটা নতুন কিছু নয়।
ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ম্যাচে ৩ উইকেট পেলেন জ্যাকস। প্রথমটিও ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। একই মাঠে চলতি মাসের শুরুতে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে চার ওভারে ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সেদিন ১২৮ রানের পুঁজি নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১১৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ড।

