ওয়ার্নার ব্রাদার্স নিয়ে প্যারামাউন্ট ও নেটফ্লিক্সের লড়াই, শেষ পর্যন্ত জিতবে কে

0
ওয়ার্নার ব্রাদার্স নিয়ে প্যারামাউন্ট ও নেটফ্লিক্সের লড়াই, শেষ পর্যন্ত জিতবে কে

বিনোদন জগতের দুই জায়ান্ট নেটফ্লিক্স এবং প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের মধ্যে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি (ডব্লিউবিডি) দখলের লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সোমবারের মধ্যেই ডেভিড এলিসনের প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সকে তাদের সেরা ও চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। 

বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্যারামাউন্ট এবার প্রতি শেয়ারে ৩২ ডলার বা তার বেশি দর হাঁকিয়ে নেটফ্লিক্সকে টেক্কা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে তাদের প্রস্তাব ছিল শেয়ারপ্রতি ৩০ ডলার।

ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির বোর্ড নেটফ্লিক্সের অনুমতি সাপেক্ষে প্যারামাউন্টের সঙ্গে আলোচনার জন্য সাত দিনের একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছিল, যার সময়সীমা আজ সোমবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হচ্ছে। 

প্যারামাউন্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও ভেতরের খবর হলো, তারা নেটফ্লিক্সের বর্তমান প্রস্তাবকে ছাপিয়ে যেতে মরিয়া। যদি ডব্লিউবিডি বোর্ড প্যারামাউন্টের উচ্চমূল্যের প্রস্তাব গ্রহণ করে, তবে চুক্তি ভঙ্গের কারণে নেটফ্লিক্সকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্যারামাউন্ট অবশ্য জানিয়েছে, তারা এই বিশাল অঙ্কের জরিমানার ভার বহন করতেও রাজি।

এখন সবার নজর নেটফ্লিক্সের দিকে। প্যারামাউন্ট নতুন প্রস্তাব দেওয়ার পর নেটফ্লিক্স হাতে চার দিন সময় পাবে সেই দরের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার অথবা এই লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর। তবে নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী টেড স্যারানডোস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত কৌশলী মন্তব্য করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, নেটফ্লিক্স অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ক্রেতা হিসেবে পরিচিত এবং অন্য কেউ যদি কোনো কিছুর জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দাম দিতে চায়, তবে নেটফ্লিক্স সেই রেষারেষি থেকে সরে আসতেই পছন্দ করে। তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দাম খুব বেশি বেড়ে গেলে নেটফ্লিক্স হয়তো এই চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেটফ্লিক্সের জন্য প্রতি শেয়ারে ৩০ ডলারের বেশি দাম দেওয়া ব্যবসায়িক দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ঋণের বোঝা এবং অন্যান্য খরচ হিসাব করলে উচ্চমূল্যে এই কেনাকাটা খুব একটা লাভজনক হবে না। অন্যদিকে, প্যারামাউন্ট যদি সত্যিই জয়ী হতে চায়, তবে তাদের দর শেয়ারপ্রতি অন্তত ৩৪ ডলারে নিয়ে যেতে হতে পারে।

এদিকে এই ব্যবসায়িক লড়াইয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও ছড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নেটফ্লিক্সের বোর্ড সদস্য সুসান রাইসকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন এবং তা না করলে নেটফ্লিক্সকে ‘পরিণাম ভোগ’ করার হুমকি দিয়েছেন। তবে টেড স্যারানডোস একে নিছক ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবেই দেখছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও (ডিওজে) খতিয়ে দেখছে যে এই সম্ভাব্য একীভূতকরণ বিনোদন বাজারে কোনো একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি করবে কি না। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন বিশ্ব বিনোদন বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত ঘটনাবহুল হতে চলেছে।

সূত্র: ভ্যারাইটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here