ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে বন্দী ফিলিস্তিনিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও পরিকল্পিত অনাহারের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে। প্রত্যক্ষদর্শী ও কারাবন্দীদের আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, কারাগারে পরিদর্শনে আসা ব্যক্তিদের সামনেই বন্দীদের জোরপূর্বক মেঝেতে শুইয়ে রেখে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়। ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস (আইপিএস) এই বিষয়টিকে তাদের নিয়মিত সাধারণ কার্যক্রম হিসেবে দাবি করলেও মানবাধিকার কর্মীরা একে চরম অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছেন।
কারা কর্তৃপক্ষের দ্বিমুখী আচরণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, কারাগারে আগত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিলাসবহুল মধ্যাহ্নভোজের। আইপিএস কর্মকর্তারা যখন দর্শনার্থীদের জন্য রাজকীয় খাবারের ব্যবস্থা করছেন, ঠিক তখনই উল্টো দিকে ফিলিস্তিনি বন্দীদের দিন কাটছে চরম অনাহারে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকে এই খাদ্য সংকট ও নির্যাতনের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পবিত্র রমজানের আবহ থেকেও ফিলিস্তিনি বন্দীদের পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখার এক সুক্ষ্ম ও নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে ইসরায়েলি প্রশাসন। ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক কমিশন জানিয়েছে, বন্দীদের এমনকি রমজান মাস শুরু হওয়ার খবরটুকুও জানতে দেওয়া হয়নি। অনেক বন্দী যখন আইনজীবীদের সাথে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন, তখন তারা অবাক হয়ে জানতে পারছেন যে রমজান শুরু হয়ে গেছে। মূলত বন্দীদের ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের আনন্দকে ধূলিসাৎ করতেই এমন তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বন্দীদের সেহরি ও ইফতারের নূন্যতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী খালেদ মাহাজনা। তিনি জানান, কারাগারে বন্দীদের জন্য সেহরির কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি এবং দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারের সময় তাদের অত্যন্ত নিম্নমানের ও নামমাত্র কিছু উচ্ছিষ্ট খাবার দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইফতার বা সেহরির সঠিক সময় জানার জন্য ঘড়ি বা ক্যালেন্ডার ব্যবহারের সুযোগও তাদের নেই, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।
গাজা ও পশ্চিম তীরের হাজার হাজার বন্দী বর্তমানে ইসরায়েলের এই বন্দিশালাগুলোতে কার্যত এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতিকে বন্দিশিবিরের অবর্ণনীয় যন্ত্রণার সাথে তুলনা করছে। যেখানে একদিকে চলছে উৎসবের আমেজ আর অন্যদিকে চলছে পরিকল্পিত অনাহার ও শারীরিক নির্যাতন, সেখানে ফিলিস্তিনি বন্দীদের জন্য আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাৎই এখন একমাত্র আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

