মধ্যপ্রাচ্যের দিকে দ্রুতগতিতে সেনা ও যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আকাশপথে তৈরি করা হয়েছে বিশাল এক ‘এয়ার ব্রিজ’ বা বিমান সেতু। ফ্লাইটরাডার–এর তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপ হয়ে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে টানা বিমান যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। এসব বিমানে নেওয়া হচ্ছে সেনা সদস্য, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পরিস্থিতি নাজুক। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এফ–১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান জার্মানির স্প্যাংডালেম এয়ার বেস, ইতালির অ্যাভিয়ানো এয়ার বেস এবং সাউথ ক্যারোলিনার ম্যাকএনটাইর ঘাঁটি থেকে রওনা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের আরএএফ লেকেনহিথ থেকে এফ–১৫ই স্ট্রাইক ঈগল এবং ভার্জিনিয়ার জয়েন্ট বেস ল্যাংলি–ইউস্টিস থেকে এফ–২২ র্যাপ্টর পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিমান পূর্বে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় অংশ নিয়েছিল।
শুধু যুদ্ধবিমান নয়, গোয়েন্দা বিমান আরসি–১৩৫ রিভেট জয়েন্ট এবং পি–৮ পসাইডন নজরদারি বিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু আরসি–১৩৫ গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে সরানো হয়েছে নিরাপত্তার কারণে। পাশাপাশি আকাশে জ্বালানি ভরার ট্যাংকার বিমান, আকাশে কমান্ড সেন্টার ও যোগাযোগ বিমানও যুক্ত হয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীও উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজ এখন আরব সাগরে রয়েছে। সঙ্গে আছে এফ–৩৫সি ও ইএ–১৮ যুদ্ধবিমান। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দিকে এগোচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ইরান বলেছে, আলোচনা চলছে, তবে চুক্তি হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। এমনকি সরকার পরিবর্তনের দিকেও নজর থাকতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে।

