ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি লিখে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক কমিশনার থিয়েরি ব্রেটনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মী।
গত ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ব্রেটন ও কয়েকজন কর্মীর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়। অভিযোগ ছিল, তারা অনলাইনে ঘৃণামূলক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ইউরোপের বাইরে পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে চেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র একে ‘এক্সট্রাটেরিটোরিয়াল সেন্সরশিপ’ (নিজ দেশের আইনের প্রভাব অন্য দেশে প্রয়োগের চেষ্টা) বলে উল্লেখ করে।
ম্যাঁক্রন তার চিঠিতে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ইউরোপের নিজস্ব আইন প্রণয়ন ক্ষমতাকে দুর্বল করে। তিনি দাবি করেন, ইউরোপের ডিজিটাল আইন শুধু ইউরোপের ভেতরেই প্রযোজ্য। এটি সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সঠিক নয়। এলিসে প্রাসাদ চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ম্যাঁক্রন চলতি বছর জি-৭ জোটে ফ্রান্সের সভাপতিত্বের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে চান। তিনি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার পক্ষে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
চিঠিতে ম্যাঁক্রন আরও একটি বিষয় তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় এক ফরাসি বিচারক নিকোলা গুইউর ওপরও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়। ম্যাঁক্রন বলেন, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইসিসির দায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ম্যাঁক্রনের বক্তব্য, মতভেদ থাকলেও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজা উচিত।

