রাজবাড়ী জেলা পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের মধ্যে তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ পেঁয়াজের যোগান দেয় রাজবাড়ী জেলা। তবে সম্প্রতি দুই দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী সদর ও বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। দুই দিন আগে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম ছিল ২ হাজার টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ীতে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে হালি পেঁয়াজের চাষ হয়। এ বছর ৬ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার পেঁয়াজচাষী মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, ‘রাজবাড়ীতে মুড়িকাটা ও হালি নামের দুই ধরনের পেঁয়াজ হয়। মুড়িকাটা পেঁয়াজের পর বাজারে হালি পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার মাশালিয়া হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার টাকায়, আজ সকাল থেকে দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। ভয়াবহ দরপতনে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
রাজবাড়ী সদর উপজেলার কৃষক হামিদ ব্যাপারী অভিযোগ করেন, ‘পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেট চলে। ঢাকা থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে আমরা ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ক্ষতি করছি। দাম কমে পেঁয়াজ বাজারে না পাঠিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
মাশালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শেখর দাস জানান, ‘আমরা প্রতি মণ পেঁয়াজ ক্রয় করছি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। মূলত পরিবহন খরচের কারণে খুচরা বাজারে দাম বেশি। সরকারের উচিত হতো রাজবাড়ীর হাট বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করা।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। কিন্তু ২ হাজার টাকার নিচে দাম গেলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার দাবি করছি।’

