লাখ লাখ সোমালিয়ান নাগরিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা নতুন তহবিল না পেলে আগামী এপ্রিলের মধ্যে কার্যক্রম স্থগিত হতে পারে। শুক্রবার সতর্ক করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি)।
ডাব্লিউএফপি জানিয়েছে, সোমালিয়ার প্রায় ৪৪ লাখ মানুষ এখন খাদ্য সঙ্কটে ভুগছেন। যার মধ্যে প্রায় দশ লাখ মানুষ গভীর ক্ষুধার সম্মুখীন। এই পরিস্থিতির মূল কারণ খরা, সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সংঘাত এবং মানবিক তহবিল কমে যাওয়া।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জরুরি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া বিভাগের পরিচালক রস স্মিথ বলেন, ‘সোমালিয়ার পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই পরিবারগুলো সবকিছুই হারিয়েছে। অনেকেই চরম খাদ্য সংকটে পৌঁছেছে। তাৎক্ষণিক জরুরি খাদ্য সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি দ্রুত আরও বিপর্যয়ের দিকে যাবে।’
সোমালিয়ায় গত নভেম্বর মাসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাপক হারে কমেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, সোমালিয়ার আশপাশের কিছু দেশও একই ধরনের খরার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, তহবিল সংকটের কারণে তারা এই বছরের শুরুতে ২২ লাখ মানুষকে সহায়তা দিচ্ছিল, এখন তা কমিয়ে মাত্র ৬ লাখ করা হয়েছে। এর ফলে গর্ভবতী ও ছোট শিশুদের জন্যপুষ্টি কর্মসূচিও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
রস স্মিথ বলেন, সহায়তা ইতোমধ্যেই সীমিত করা হয়েছে। সেটি এবার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে প্রভাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। শুধু মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবন ঝুঁকিতেই পড়বে না; সমাজের নিরাপত্তা সমস্যা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও দেখা দেবে। এই সমস্যার প্রভাব সোমালিয়া থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

