টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি অভিযানে একটি হত্যা মামলার তিন আসামি এবং ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার ও মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৪-এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সখিপুর থানার একটি হত্যা মামলার ঘটনায় নিহত কোরপান আলী (৭০) ও আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা। নিহতের স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি বাড়ির বাইরে চলে যান। স্ত্রীকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে গেলে বিবাদীরা কোরপান আলীকে গালিগালাজ করেন এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।
পরে কোরপান আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ২৩ জানুয়ারি তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. মিজানুর রহমান সখিপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে র্যাব ৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল সদর থানার ছোট কালিবাড়ি বিশ্বাস বেতকা এলাকা থেকে মামলার ৪ নম্বর আসামি রাসেল মিয়া (৩৭), করোটিয়া এলাকা থেকে ৫ নম্বর আসামি মর্জিনা বেগম (৩২) এবং গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা চকপাড়া এলাকা থেকে ১ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলী (৬০)কে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনের একটি মামলায় প্রধান আসামি মিলন (৩৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামি কৌশলে ভুক্তভোগীর নগ্ন ছবি ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে এক লাখ টাকা আদায় করেন। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ভুক্তভোগীকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
ভুক্তভোগীর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানার গালুটিয়া এলাকা থেকে মিলনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।

