একসময় আবেদন বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানকে আবারও অনুমোদন দিতে তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও সরকারের জ্বালানি বিভাগ। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ যখন আর মাত্র দুই কার্যদিবস বাকি, তখন এমন তোড়জোড়কে বাঁকা চোখেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই ২৫ সেপ্টেম্বর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক প্রক্রিয়াকরণ, মজুত ও বিপণনের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে চট্টগ্রামভিত্তিক টিকে গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল), বর্তমানে এসপি পিএলসি। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি বিভাগ বিষয়টিতে মতামত চেয়ে বিপিসিকে চিঠি দেয়।
এ নিয়ে বিপিসির মহাব্যবস্থাপককে (বণ্টন ও বিপণন) প্রধান করে কমিটি গঠন করে বিপিসি। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেয় ওই কমিটি। প্রতিবেদনটিতে অবশ্য প্রস্তাবিত প্রকল্পে আর্থিক বিনিয়োগের কোনো তথ্য দেওয়া ছিল না।
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ এ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে (স্বারক নং—২৮.০০.০০০০.০০০.০২৬.৯৯.০০৬৫.২০.৪৪৯) বলা হয়, এসপিএলকে কোনো প্রকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি বিধায় আবেদনটি বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অর্থাৎ শর্ত পূরণ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির আবেদন বাতিল করা হয়।
তবে এরপর ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের কাছে ‘বেসরকারি পর্যায়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’-এর অধীনে কার্যক্রম পরিচালনায় আবেদন করে এসপিএল। আশ্চর্যের বিষয় একবার বাতিল হলেও নতুন করে আবেদনের মাত্র ৬ দিনের মাথায় ৩ ফেব্রুয়ারি সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এলপিএলকে রিফাইনারি স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদনের মতামতের প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিপিসির এক বোর্ডসভাকে ঘিরে। ৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টায় জুম প্ল্যাটফর্মে বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল) কর্তৃক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে।’
কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারির সেই মিটিং একদিন এগিয়ে এনে গতকাল রবিবার বিকাল ৫টায় আয়োজন করা হয়। আর সেই জুম সভায় বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) এর উপস্থাপিত ১০১৭তম বোর্ডসভার কার্যপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ‘বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় প্রাথমিক অনুমতি প্রদানের বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক বিবেচনা করা যেতে পারে’ বলে সুপারিশ করা হয়।
সরকারের মেয়াদ আর মাত্র দুই কার্যদিবস বাকি থাকায় যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে এসপিএলকে নতুন রিফাইনারির অনুমোদনের জন্য সুপারিশকে সন্দেহের চোখে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান বলেছেন, প্রথম অগ্রাধিকার ইস্টার্ন রিফাইনারিই। সুপার পেট্রোলিয়ামের কাজ এখনো সিদ্ধান্তের পর্যায়ে নেই। তাদের পুরো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

