এপস্টেইন-কাণ্ডের জেরে টলমল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর গদি!

0
এপস্টেইন-কাণ্ডের জেরে টলমল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর গদি!

যুক্তরাজ্যে ব্যাপক শোরগোল চলছে এপস্টেইন-কাণ্ডের জেরে। গদি হারাতে পারেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে হিসেবে নিয়োগ করা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। সম্প্রতি এই নিয়োগের সম্পূর্ণ দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মর্গ্যান ম্যাকসুইনে। তারপরেই স্টারমারের পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

কেবল বিরোধী দলগুলো নয়, ব্রিটেনের শাসকদল লেবার পার্টির অন্দর থেকেও স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারমার এখনও পদত্যাগ না-করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্যরা। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্টারমার পদত্যাগ না-করলে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের কয়েকজন কর্মচারী ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়। এপস্টেইন ফাইলে তার নাম প্রকাশ পেতেই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরেও অবশ্য বিতর্ক থামেনি। ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ করার সমস্ত দায় নিয়ে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন স্টারমার-ঘনিষ্ঠ ম্যাকসুইনে। পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, “পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এতে আমাদের দলের (লেবার পার্টি), দেশের ক্ষতি হয়েছে।” ম্যান্ডলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করার পরামর্শ স্টারমারকে তিনিই দিয়েছিলেন বলে জানান ম্যাকসুইনে।

ম্যাকসুইনে পদত্যাগ করার পরই তার অবদানের কথা তুলে ধরেন স্টারমার। ২০২৪ সালে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপুল জয়ের নেপথ্যে ম্যাকসুইনের অবদানের কথা স্বীকার করেন তিনি। লেবার পার্টির অন্দরের খবর, প্রশাসনিক নানা বিষয়ে ম্যাকসুইনের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল ছিলেন স্টারমার। তাই তার পদত্যাগ প্রকৃতপক্ষে দল এবং সরকারে স্টারমারের অবস্থানই নড়বড়ে করে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের আমলে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন ম্যান্ডেলসন। সেই সময় ব্রিটেনের বেশ কিছু স্পর্শকাতর তথ্য তিনি এপস্টেইনের কাছে ফাঁস করে দেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ব্রিটেনের বিরোধী দলগুলোর প্রশ্ন, এমন একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানোর আগে কেন যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া হল না? কেন স্টারমার এর দায় নেবেন না? সূত্র: ফ্রান্স২৪, দ্য উইক, পিটিআই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here