পুরুষ ধানি তুলিকা মেয়ে পাখির দৃষ্টি আকর্ষণে করে অভিনব কৌশল

0
পুরুষ ধানি তুলিকা মেয়ে পাখির দৃষ্টি আকর্ষণে করে অভিনব কৌশল

ধানি তুলিকা পাখিটি চড়ূই কিংবা বাবুই পাখির মতো ছোট। পাখিটি আবাসিক হলেও আগের মত দৃষ্টি গোচর হয় না।  ধানি তুলিকার বৈশিষ্ট হচ্ছে এরা সারা বছর ধরে বংশ বৃদ্ধি করতে পারলেও মূলত শুকনো মৌসুমে বেশি দেখা যায়। এদের বছরে দুই বা আরও বেশি পাখি শাবক থাকতে পারে। প্রজনন মৌসুমে মেয়ে পাখিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য পুরুষ মাটি থেকে কয়েক ফুট ওপরে  উঠে ঘনঘন ডাকতে থাকে।

সম্প্রতি রাজশাহীর পদ্মা নদীর চরে এই পাখিটির ছবি তুলেছেন রংপুরের ওয়াল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার বিশিষ্ট কবি ও লেখক রানা মাসুদ।

পাখিটি সম্পর্কে জানা গেছে, ধানি তুলিকা হল তুলিকা ও খঞ্জন গোত্রের একটি ছোট প্যাসারিফর্মিস পাখি। এরা আবাসিক অপরিযায়ী জাতের। খোলা তৃণভূমি এবং চাষাবাদ ক্ষেত্রে বিচরণ করে।

ধানি তুলিকা ১৫ সেন্টি মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এদের উপরের অংশে ধূসর-বাদামি এবং বুকের দিকে হাল্কা ডোরাকাটা দাগ থাকে। এদের লম্বা পা, লম্বা লেজ এবং দীর্ঘ কালছে ঠোঁট রয়েছে। পুরুষ-স্ত্রী তুলিকা দেখতে প্রায় একই রকম। গ্রীষ্ম ও শীতকালে পালকে কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তরুণ পাখিদের প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে নিচের দিকে রঙ বেশি উজ্জ্বল থাকে এবং পালকের উপরের অংশের প্রান্তভাগ ফ্যাকাশে হয়। বুকের ওপরের দাগ তুলনামূলকভাবে প্রকট থাকে। এরা মাটিতে দ্রুত দৌড়াতে পারে, এবং ধাওয়া দিলে, খুব বেশি দূরে উড়ে যেতে পারে না। এরা স্বল্প গোছরে একঝাঁক ঘাসের মাঝে বা ঝোপের কিনারায় মাটিতে বাসা তৈরি করে। বাসাগুলো ঘাস এবং পাতা থেকে বোনা হয় এবং সাধারণত কাপ আকৃতির হয়। উন্মুক্ত বাসাগুলো কখনও কখনও গম্বুজ বা অর্ধ-গম্বুজ আকৃতির হয়, ও বাসার পেছনে এবং পাশের অংশের দীর্ঘ ঘাস বাসার শীর্ষ অংশ পর্যন্ত প্রসারিত করতে দেখা যায়। বাসাগুলো ঘাস বা শিকড় দিয়ে এবং কখনও কখনও সামান্য শুকনো শ্যাওলা, ফার্নবিশেষ বা অন্যান্য উপাদান দিয়ে ঘিরে রাখতে দেখা যায়। এরা একসঙ্গে তিন বা চারটি ডিমে তা দিয়ে থাকে। ডিমগুলো সবুজাভ ও গায়ে অসংখ্য ছোট ছোট বাদামি চিহ্ন থাকে। এদের বাসায় কোনো কারণে বিরক্ত করা হলে এরা  নিচু স্বরে চিপ-চিপ-চিপ শব্দে ডাকে। ছোট পোকামাকড় এদের প্রধান খাদ্য।

ছবির কারিগর রানা মাসুদ পাখিটি সম্পর্কে অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে বলেন, ছবি তুলতে গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে পদ্মার চরে। পাখিটি ঘাসের ওপরে থাকায় ঠিক মত দেখা যাচ্ছিল না। অপেক্ষা করছিলাম কখন চরের কিনারায় যাবে। এভাবে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরে পাখিটি যখন চরের কিনারায় গিয়েছে তখনই ছবিটি তুলেছি।

তিনি বলেন, পুচ্চুটার ভাব দেখে মনে হচ্ছে সে যেন বলছে- শির নেহারি আমারি নত শিল ওই শিখর হিমাদ্রির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here