প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের নথি থেকে বেরিয়ে আসা একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে প্রিন্স উইলিয়াম এবং তার স্ত্রী কেট মিডলটন ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর চাচা অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন এবং জোরালো অভিযোগগুলো রাজপরিবারকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
রাজা চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু ইতোমধ্যেই এপস্টাইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ বৃত্ত থেকে বিতাড়িত। সম্প্রতি এপস্টাইন-সংক্রান্ত কয়েক মিলিয়ন নথিপত্র জনসমক্ষে আসার পর ৬৫ বছর বয়সী এই সাবেক প্রিন্স ফের কঠোর নজরদারির মুখে পড়েছেন।
গত অক্টোবরে রাজা চার্লস এবং রানি ক্যামিলা ভুক্তভোগীদের প্রতি সমবেদনা জানালেও, সোমবার প্রিন্স এবং প্রিন্সেস অব ওয়েলসের পক্ষ থেকে আসা এই মন্তব্যটি এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে রাজপরিবারের সবচেয়ে সরাসরি অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উইলিয়াম ও কেটের একজন মুখপাত্র রিয়াদে প্রিন্সের সফরের আগে সাংবাদিকদের বলেন, আমি নিশ্চিত করতে পারি যে, প্রিন্স এবং প্রিন্সেস চলমান এই উদ্ঘাটনগুলোতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের ভাবনা এবং সমবেদনা ভুক্তভোগীদের সঙ্গেই রয়েছে।
নতুন প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ২০১০ সালে এপস্টাইন শিশু যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরেও অ্যান্ড্রু তার তৎকালীন সরকারি বাণিজ্য দূতের পদ ব্যবহার করে স্পর্শকাতর ব্রিটিশ নথিপত্র এপস্টাইনের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। ইমেলগুলোতে ভিয়েতনাম এবং সিঙ্গাপুর সফরের গোপনীয় রিপোর্ট আদান-প্রদানের প্রমাণ মিলেছে, যা বাণিজ্য দূতদের কঠোর গোপনীয়তা নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।
এপস্টাইন ফাইলের এই প্রভাব কেবল রাজপরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারও এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে। এপস্টাইনের পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় স্টারমার তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, ম্যান্ডেলসনও ২০০৯-২০১০ সালে এপস্টাইনের সঙ্গে সরকারি ফাইল শেয়ার করেছিলেন। পুলিশ বর্তমানে সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের এই অভিযোগগুলো তদন্ত করছে।
টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, তারা উইন্ডসরের একটি ঠিকানায় এক নারীকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে ওঠা একটি নতুন অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
সূত্র: রয়টার্স

