পুঁজি খুব বড় না হলেও দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় এক জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের ১৯তম ওভার শুরুর আগ পর্যন্ত জয়ের পাল্লা ছিল ডাচদের দিকেই। কিন্তু একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। শেষ পর্যন্ত হারের দায় নিজেদের কাঁধেই চাপালেন নেদারল্যান্ডসের পেসার
১৪৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ১১৪ রানেই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৭ উইকেট শিকার করে নেদারল্যান্ডস। তখনই ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইউরোপীয় দলটি।
তবে শেষদিকে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ফাহিম আশরাফ। ১১ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে অপরাজিত ২৯ রান করে পাকিস্তানকে এনে দেন ৩ উইকেটের নাটকীয় জয়।
১৯তম ওভারেই ফাহিমকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। সে সময় পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১১ বলে ২৩ রান। কিন্তু লং-অনে সহজ ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন মাক্স ও’ডাউন। জীবন পেয়ে ওই ওভারের শেষ চার বলেই দুটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান ফাহিম। সেই ওভার থেকেই আসে ২৪ রান, যা কার্যত ম্যাচটি ডাচদের হাতছাড়া করে দেয়। শেষ ওভারে আরেকটি চার মেরে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরে আসায় মাঠেই হতাশায় ভেঙে পড়েন নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ ঝরেছে পল ফন মিকেরেনের কণ্ঠে।
তিনি বলেন,’আমি আমার দলকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত। আমরা হয়তো যত রান চেয়েছিলাম, তা তুলতে পারিনি। কিন্তু পাকিস্তানের ভালো শুরুর পর যেভাবে আমরা ম্যাচে ফিরে এসেছি, সেটাই আমাদের দলের সংস্কৃতি এবং কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতার প্রতিফলন।’
ক্যাচ মিসের কথায় সরাসরি দায় স্বীকার করে মিকেরেন আরও বলেন,’এটা পরিষ্কার, ক্যাচই ম্যাচ জেতায়। আমি খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আজ পাকিস্তান ম্যাচটা জেতেনি; আমরাই হেরেছি। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে আমরা ছিলাম ভালো দল এবং এই ম্যাচে জয় আমাদেরই প্রাপ্য ছিল। এমনকি আজকের ম্যাচের পরই হয়তো পাকিস্তানকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিতে পারতাম। তাই এটা দুঃখজনক, কিন্তু যা হওয়ার হয়ে গেছে।’
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ না খেলার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল পাকিস্তান। ফলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি না হলে এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারলে পরের রাউন্ডে ওঠা কঠিন হয়ে পড়তে পারত সালমান আলি আগার নেতৃত্বাধীন দলের জন্য। সে দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের ফন মিকেরেন। তবে ফাহিম আশরাফের কার্যকর ক্যামিও ইনিংসে জয় তুলে নিয়ে সব শঙ্কা দূরে সরিয়ে দেয় পাকিস্তান।

