মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত সেই শিশুর মৃত্যু

0
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত সেই শিশুর মৃত্যু

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত টেকনাফের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান (১২) মারা গেছে।শনিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হুজাইফা এতোদিন ওই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিল। 

এ ব্যাপারে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, প্রথমে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আমরা তাকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর (মেশিনের মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাস) সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে সে মেশিন ছাড়া শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারলেও পরে তার অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে। এজন্য গত বৃহস্পতিবার আবার তাকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে তার রক্তে ইনফেকশন মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ইনফেকশন এন্টিবায়োটিকে কাজ করছিল না। মানে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট দেখা দেয়। এ কারণে ইনফেকশনের মাত্রা বেশি হলে হুজাইফা শকে চলে যায়। পরে অন্যান্য ওষুধে কাজ না হলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে হুজাইফা।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালে ওই শিশুর সঙ্গে থাকা তার চাচা শওকত।

তিনি বলেন, শনিবার সকালে চিকিৎসকরা হুজাইফাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আপনারা সবাই আমার ভাতিজির জন্য দোয়া করবেন।

গত ১১ জানুয়ারি সকালে মিয়ানমারের থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় হুজাইফা। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় শিশুটিকে।

দুই দিন পর ১৩ জানুয়ারি বিকালে মাথায় বিদ্ধ গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হুজাইফাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় জানিয়েছিলেন, শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকি থাকায় মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here