ইতিহাসে দামি পদক পাচ্ছেন অলিম্পিকের খেলোয়াড়রা

0
ইতিহাসে দামি পদক পাচ্ছেন অলিম্পিকের খেলোয়াড়রা

বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই ইতালির মিলান ও কোর্তিনায় পর্দা উঠছে শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান ভেন্যু মিলানের ঐতিহাসিক সান সিরো স্টেডিয়াম।

একই সময়ে কোর্তিনা দ’আম্পেজোর অলিম্পিক আইস স্টেডিয়ামেও চলবে উদযাপন। বড় পর্দায় দুই শহরের অনুষ্ঠান একে অপরের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তবে অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের অলিম্পিক গেমসে বিজয়ীদের হাতে উঠছে অলিম্পিক ইতিহাসের সবচেয়ে দামী পদক।আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রূপার দামে রেকর্ড বৃদ্ধির ফলে পদকগুলোর আর্থিক মূল্য আগের যেকোনও আসরের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে উঠেছে।

তথ্য বিশ্লেষণ সংস্থা ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্যারিস অলিম্পিকের পর থেকে স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ১০৭ শতাংশ এবং রূপার দাম বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ। এর ফলে একটি স্বর্ণপদকের ধাতব মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলারে। যা প্যারিস অলিম্পিকের সময়কার মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি। একইভাবে একটি রৌপ্যপদকের বর্তমান মূল্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলার, যা দুই বছর আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কিইং, আইস হকি, ফিগার স্কেটিং ও কার্লিংসহ বিভিন্ন শীতকালীন ইভেন্টে অংশ নেওয়া বিশ্বের সেরা ক্রীড়াবিদদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ৭০০টিরও বেশি স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক। সম্মান ও গৌরবের দিক থেকে এসব পদকের মূল্য অমূল্য হলেও, ধাতব বাজারমূল্যের হিসাবে এবার সেগুলোর দাম নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সিএনএন-এর সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইতালির রাষ্ট্রীয় টাকশাল ও পলিগ্রাফিক ইনস্টিটিউট পুনর্ব্যবহৃত ধাতু দিয়ে এসব পদক তৈরি করেছে। তবে স্বর্ণপদকের নাম থাকলেও তাতে খাঁটি স্বর্ণের পরিমাণ খুবই কম। একটি স্বর্ণপদকের মোট ওজন ৫০৬ গ্রাম হলেও এর মধ্যে মাত্র ৬ গ্রাম খাঁটি স্বর্ণ রয়েছে, বাকি অংশ রূপা। ব্রোঞ্জ পদক তৈরি করা হয় তামা দিয়ে, যার বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালের স্টকহোম অলিম্পিকের পর থেকে অলিম্পিক স্বর্ণপদক আর কখনোই পুরোপুরি খাঁটি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হয়নি। তবে সংগ্রাহকদের কাছে এসব পদকের মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। ২০১৫ সালে ১৯১২ সালের একটি স্বর্ণপদক নিলামে বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২৬ হাজার ডলারে। তবে বেশিরভাগ অলিম্পিয়ানই তাঁদের পদক বিক্রি করেন না। কারণ অর্থমূল্যের চেয়ে স্মৃতি ও অর্জনের গুরুত্বই তাদের কাছে বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here