গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ল্যাব অপারেটরের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ও স্কুলগেটে তালা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিজয় হালদার ও ধর্ষণচেষ্টাকারী ল্যাব অপারেটর লিমন বিশ্বাসের বহিষ্কারেরও দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার সাতপাড় দীননাথ গয়ালী চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব কর্মসূচি পালন করে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) স্কুল ছুটির সময়ে ল্যাব অপারেটর লিমন বিশ্বাস নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে। এ ঘটনাটি ওই ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের
লোকজন প্রধান শিক্ষকের কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওইদিনই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিমন বিশ্বাসের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ওই টাকা বা কোনো বিচার না দেওয়ায় যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে জানালে ওই এলাকায় ও স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা স্কুলের ক্লাস বর্জন করে স্কুল কম্পাউন্ডে আন্দোলনে নামে। তারা প্রধান শিক্ষক বিজয় হালদার ও ধর্ষণচেষ্টাকারী ল্যাব অপারেটর লিমন বিশ্বাসের বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ ও স্কুলগেটে তালা লাগিয়ে দেয়।
এ ঘটনার সত্যতা জানতে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিজয় হালদারকে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন করেও পাওয়া পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সেলিম তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি তবে স্কুলের শিক্ষকরা আমাকে জানায়নি। এ ছাড়া ল্যাব অপারেটর লিমন বিশ্বাস কর্তৃক জনৈক ছাত্রী হেনস্তা বা যৌন হয়রানি বা ধর্ষণচেষ্টার বিষয়টি তারা আমাকে জানায়নি।
স্থানীয় সাতপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৌশিক কীর্ত্তনীয়া বলেন, স্কুল একটি পবিত্র বিদ্যামন্দির। সেখানে যারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাবে তারাই যদি ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা বা যৌন হয়রানি করে তাহলে ছেলে-মেয়েরা পড়বে কোথায়? তিনি এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

