নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারছে না বাংলাদেশ। এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতির প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ফলে সম্ভাব্য শাস্তির মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠির মতে, এই সিদ্ধান্তে স্বল্পমেয়াদে ক্ষতি হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক ফল আসতে পারে।
নাজাম শেঠির বিশ্বাস, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একসঙ্গে অবস্থান নিলে আইসিসির ভেতরে সংস্কারের পথ তৈরি হতে পারে। তার মতে, দুই দেশের প্রায় ৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
গত ২৪ জানুয়ারি আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করেই বিশ্বকাপের বড় অংশের রাজস্ব আসে। ফলে পাকিস্তানের ঘোষণার পর থেকেই চাপে পড়ে আইসিসি। সংস্থাটি পাকিস্তানকে সম্ভাব্য ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের’ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ম্যাচের দিন যত এগিয়ে আসছে, পরিস্থিতি ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এই সংকট নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজাম শেঠি বলেন, অতীতেও আইসিসি পাকিস্তানের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করেনি এবং এবার বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ আমলে না নিয়েও ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন,’আইসিসি আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে। এখন বাংলাদেশকেও এক অর্থে উপেক্ষা করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এক পাশে ৪০ কোটি মানুষ রয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এখন যে চিন্তাধারা তৈরি হয়েছে, তার মূল কথা হলো এখনই দাঁড়িয়ে যাওয়ার সময়।’
শেঠির মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই অবস্থান আইসিসিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন,’বিসিসিআই আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে, এই ধারণা থেকেই সংস্থাটি অসম নীতিতে চলে। এতে সাময়িক ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা একটি সংস্কারকৃত ও ন্যায়ভিত্তিক আইসিসি দেখতে পারি।’
তবে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে বলেও মনে করেন শেঠি। তিনি বলেন,’আমি পিসিবির মুখপাত্র নই, এটি আমার ব্যক্তিগত মত। সরকার ও পিসিবির মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ম্যাচের আগে এখনও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে। আমার ধারণা, কিছু আলোচনা চলছে এবং আমি আশা করি, তা ইতিবাচক ফল দেবে।’

