ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে দুই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে গার্দিওলা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্রিটেনের মতো দেশে যদি একজন নার্স এভাবে গুলিবিদ্ধ হতেন, তবে তার পক্ষে সাফাই গাওয়ার কোনো পথ থাকতো কি না। তবে বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন অস্থিরতা নিয়ে মুখ খুলে প্রশংসিত হলেও নিজের ক্লাবের মালিকানার যোগসূত্র নিয়ে এবার অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি।
গাজা, ইউক্রেন এবং সুদানের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে গার্দিওলা বরাবরই সরব। এমনকি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি গ্রহণের সময়ও তিনি গাজায় হাজার হাজার নারী ও শিশুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই বৈষম্য এবং সহিংসতা তার শরীর ও মনকে ব্যথিত করে। কিন্তু এই ইতিবাচক ভাবমূর্তির আড়ালে এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির মালিকপক্ষের সাথে সুদানের যুদ্ধের কথিত সংশ্লিষ্টতা।
২০০৮ সাল থেকে ক্লাবটির মালিকানায় আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ-কে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতে আসা কিছু ফোন কলের বরাতে দাবি করা হচ্ছে যে, আরএসএফ প্রধান হেমেদতির সাথে শেখ মনসুরের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি এই বাহিনীকে সশস্ত্র করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছেন।
এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে ম্যানচেস্টারে বসবাসরত সুদানিজ অধিকারকর্মীরা এখন সোচ্চার হয়েছেন। তাদের দাবি, গার্দিওলা যখন প্রকাশ্যে সুদানের যুদ্ধের নিন্দা জানাচ্ছেন, তখন তার নিজের ক্লাবের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেই সেই যুদ্ধে ইন্ধন দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ এই দুই বিষয়ের মধ্যকার যোগসূত্র নিয়ে কোচ কিংবা ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখনো পুরোপুরি নীরব। ফুটবল মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি নৈতিকতার এই প্রশ্নটি এখন গার্দিওলা এবং ম্যানচেস্টার সিটি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট আই

