বাড়িতে ইন্টারনেট ও সব ডিভাইসের মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে ওয়াইফাই রাউটার খুব গুরুত্বপূর্ণ। অথচ স্মার্টফোন, টিভি বা ল্যাপটপ নিয়ে মানুষ যতটা মাতামাতি করেন রাউটার নিয়ে ততটা করেন না। রাউটারটি ঘরের এক কোণে অবহেলিতভাবেই পড়ে থাকে।
আমেরিকান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ম্যাগাজিন পপুলার মেকানিক্স প্রতিবেদনে লিখেছে, সাধারণত নতুন সংস্করণ মানেই মানুষ ধরে নেন ইন্টারনেটের গতি রকেটের মতো বেড়ে যাবে। তবে মানুষের সেই চিরচেনা ধারণা বদলে দিতে আসছে ওয়াইফাই ৮, যা ব্যবহারকারীকে আগের চেয়ে বেশি গতি দেবে না। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে করে তুলবে আরও মসৃণ ও স্মার্ট।
ওয়াইফাই ৮-এর মূল লক্ষ্য, একইসঙ্গে অনেকগুলো ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানো। ফলে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতির বিষয়টি আসলে বাস্তবে অনুভব করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। তবে সেজন্য একটু ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ এখনও বাজারে ওয়াইফাই ৮ রাউটার আসেনি। ফলে তা এখনই কেনা সম্ভব নয়।
প্রতিবার ওয়াইফাইয়ের নতুন কোনো সংস্করণ আসার পরই তা বাড়ির সব ডিভাইসের পারফরম্যান্স এক লাফে বাড়িয়ে দেয়। একটি ভালো রাউটার ছাড়া ইন্টারনেটে সংযোগ থাকা বিভিন্ন ডিভাইস কাজ করতে পারে না। ভালো রাউটারের কাজ হচ্ছে, একইসঙ্গে অনেক তথ্য আদান-প্রদানের পথ সামলানো ও পর্যাপ্ত গতি ধরে রাখা।
পাশাপাশি দেয়াল, আসবাবপত্র বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির কারণে সিগনালে যে বাধা তৈরি হয় তা কাটিয়ে নির্ভরযোগ্য এক সংযোগ নিশ্চিত করাও এর কাজ। অতীতের বেশিরভাগ ওয়াইফাইয়ের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি বা ডেটা আদান-প্রদানের হার বাড়ানোর দিকেই নজর দিয়েছে। বিষয়টিকে এভাবে কল্পনা করা যেতে পারে, কেউ একটি স্ট্র দিয়ে মিল্কশেক খাচ্ছেন এবং প্রতিবার নতুন সংস্করণে স্ট্রটি আগের চেয়ে আরও বেশি চওড়া বা মোটা হচ্ছে, যাতে একবারে বেশি পরিমাণ শেক মুখে আসে।
ওয়াইফাই ৮-এর বিশেষত্ব হচ্ছে তা ওয়াইফাই ৭-এর সর্বোচ্চ গতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। ওয়াইফাই ৭-এর গতি প্রতি সেকেন্ডে ৪৬ গিগাবিটস। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি মেলা ‘সিইএস’-এ ওয়াইফাই ৮ দেখিয়েছে তাইওয়ানভিত্তিক বহুজাতিক হার্ডওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি আসুস। ওই সময় কোম্পানিটি বলেছিল, ওয়াইফাই ৮ ল্যাগ কমানোর পাশাপাশি ‘নির্ভরযোগ্য সংযোগ ও ডিভাইসগুলোর মধ্যে বুদ্ধিমান সমন্বয়কে’ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সহজ কথায়, নতুন এ প্রযুক্তিটি মূলত অনেক ডিভাইসকে একসঙ্গে সামলানোর জন্য তৈরি করেছে কোম্পানিটি। ওয়াইফাই ৭-এর তুলনায় ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের মতো ডিভাইসে দ্বিগুণ ভালো পারফরম্যান্স এবং বিভিন্ন স্মার্ট হোম গ্যাজেটের জন্যও দ্বিগুণ ব্যান্ডউইথ নিশ্চিত করবে ওয়াইফাই ৮।
এ ছাড়া, এর মাধ্যমে গেইমিং বা ভিডিও কলের ক্ষেত্রে ল্যাগ প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগে নেমে আসবে। আসুসের মতে, রাউটারের ডেটা ব্যবহারের সময় অনেক ডিভাইস যখন একসঙ্গে চাপ তৈরি করে তখন ওয়াইফাই ৮ সেগুলোকে আরও ভালোভাবে সামলাতে পারবে।
যে কোনো নতুন ওয়াইফাই আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা কেনার জন্য দোকানে দৌড়াতে হবে না। প্রথমত, গ্রাহকরা চাইলেও এখন এটি কিনতে পারবেন না। বর্তমানে বাজারে কোনো ওয়াইফাই ৮ রাউটার নেই। কারণ, ২০২৮ সালের আগে ওয়াইফাই ৮ বাজারে আনার নিয়মকানুন আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করবে না মার্কিন ‘ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স’ বা আইইই।
দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের কাছে থাকা বর্তমান রাউটারটি আরও অনেক বছর অনায়াসে কাজ করবে। পুরানো ওয়াইফাই প্রযুক্তি হুট করে অকেজো হয়ে যায় না এবং এসব রাউটার সাধারণত অনেক দিন টেকে। পুরানো রাউটার নষ্ট হয় বলে সাধারণত কেউ তা পরিবর্তন করে না মানুষ, বরং নতুন রাউটার কেবল তখনই কেনেন যখন তাদের আরও বেশি গতির প্রয়োজন হয়।

