ইউক্রেন সংকটের উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই বিশ্বরাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতা। আর সেই আলাপে সামনে আসছে রাশিয়ার নাম। অনেকে প্রশ্ন করছেন, রাশিয়া কি মিত্র ইরানকে বাঁচাতে পারবে নাকি কেবল কাল ক্ষেপণ?
এই সংঘাতের আবহেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিষয়ে কিছুটা নমনীয় সুর প্রকাশ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তেহরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি আশাবাদী। ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ালেও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানে হামলার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই।
কূটনৈতিক এই পরিবর্তনের পেছনে রাশিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দাবি করছে। কুয়েতি সংবাদপত্র আল-জারিদার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া, তুরস্ক এবং কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার নতুন দুয়ার খুলেছে। গত সপ্তাহে মস্কোয় ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজনির সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের পর ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসেছেন।
রুশ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি তদারকি করবে যাতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ স্পষ্ট করেছেন, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মতো এবারও মস্কো একটি কার্যকর সমাধান আনতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সামরিক সংঘাত রুখতে এই গোপন কূটনৈতিক তৎপরতা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আরটি

