৫৭তম কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলা তার শেষ লগ্নে এসে পৌঁছেছে। আর এই মুহূর্তে মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের মেলা তার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের রেকর্ড গড়েছে, যা বইপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে।
এবারের কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলা এক অভিন্ন ৫৭তম সংস্করণ। ৮৩টি দেশ থেকে ১,৪৫৭টি প্রকাশনী এবং প্রায় ৬,৬৩৭ জন প্রদর্শক এই মেলায় অংশ নিয়েছেন, যা এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মেলার মূল থিম হিসেবে এবারে বিশেষভাবে ৎনোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজকে ‘বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে সম্মান জানানো হয়েছে, যা তার সাহিত্যকর্মের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
মেলার গেস্ট অব অনার রোমানিয়া। দেশটি তাদের সমৃদ্ধ সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং প্রকাশনা শিল্পকে আন্তর্জাতিক পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছে। মেলার প্যাভিলিয়নে বিভিন্ন সাহিত্য আলোচনার পাশাপাশি রোমানিয়ার লেখক, অনুবাদক ও প্রকাশকরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও জোরদার করেছে।

ডিজিটাল উদ্যোগ ও পাঠকপ্রিয়তা:
মেলায় দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য ‘Book Fair Go’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপটি মেলার পরিস্থিতি, ইভেন্ট শিডিউল এবং প্রকাশকদের অবস্থান সহজে খুঁজে পেতে সাহায্য করছে, যা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে বইমেলার এক চমৎকার সমন্বয়।
এবারের মেলায় ধর্মীও বইয়ের মধ্যে বেস্ট-সেলার হিসেবে ‘The Great Upheaval (Al-Fitna al-Kubra)’ বিশেষভাবে পাঠক ও ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এছাড়াও শিশু ও ধর্মীয় শিক্ষা-সম্পর্কিত বইগুলোও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে এবং পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশি লেখকদের উপস্থিতি:
কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশি লেখকদের উপস্থিতি এবং তাদের বইয়ের প্রতি আন্তর্জাতিক পাঠকদের আগ্রহ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বাইতুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক হাফি.-এর বিখ্যাত আরবি গ্রন্থ ‘আল-মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিসিশ শরিফ’ ২০২১ সালের মতো ২০২৬ সালের এই আসরেও চমৎকার সাড়া ফেলেছে। শুধু তাই নয়, তার গবেষণামূলক নতুন গ্রন্থগুলোও আন্তর্জাতিক পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এছাড়াও বাংলাদেশের আরেকজন লেখক আল্লামা আরীফ উদ্দীন মারুফের জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যকর্ম এই মেলায় প্রশংসিত হয়েছে। তার গ্রন্থগুলো আরবি ভাষার দুষ্প্রাপ্য কিতাব সংগ্রহের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভিনদেশে বাংলাদেশি লেখকের বই দাপটের সাথে বিক্রি হওয়াও অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

গ্রন্থগুলো যেসব স্টলে পাওয়া যাচ্ছে: আন্তর্জাতিক কায়রো বইমেলার হল নম্বর–৪-এ আল্লামা আরীফ উদ্দীন মারুফের গ্রন্থগুলো নিম্নলিখিত স্টলগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে:
• স্টল A20: নাফাহাত মিন আশআরিস সাহাবা ওয়াস সাহাবিয়াত, ফী লাহজাতিল ওদাইল আখির
• স্টল B54: আলা ইয়া আইনু ইবকী, রিসালাতুল আমনি ওয়াসসালাম
• স্টল B33: রাওয়ায়ে মিন আশআরি সাহাবা
উল্লেখ্য, এই বইমেলা ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও, ক্রেতা ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোর ব্যাপক চাহিদা বিবেচনা করে এর সময়সীমা আরও কিছুদিন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

