বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে গেছে ক্রিকেটের উত্তাপ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্ব। যদিও শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘটনায় টুর্নামেন্টের পরিকল্পনায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তবে সব জট কাটিয়ে নির্ধারিত দিনেই বিশ্বকাপ শুরুর আশাবাদ সবার।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিজের ভবিষ্যদ্বাণী জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। এর আগে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ও সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মার নাম উল্লেখ করেছিলেন। এবার পুরো টুর্নামেন্টের ফেভারিট হিসেবেও ভারতের নাম নিলেন এই অজি কিংবদন্তি।
সম্প্রতি আইসিসি রিভিউ অনুষ্ঠানে পন্টিং বলেন,’ভারত সম্ভবত এই টুর্নামেন্টে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই শুরু করছে। কন্ডিশন, তাদের প্রতিভা এবং যে মানের ক্রিকেটার দলটিতে আছে, সবকিছু মিলিয়ে ভারতকে হারানো খুবই কঠিন হবে। তবে আমি সত্যিই মনে করি, সেমিফাইনালের সময় অস্ট্রেলিয়াকেও সেখানে দেখা যাবে।’
নিজের দল অস্ট্রেলিয়াকে নিয়েও আশাবাদী পন্টিং, যদিও ভারতের মতো অতটা শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন না তিনি। স্কোয়াডে কিছু পরিবর্তন এবং চোট সমস্যা অজিদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি ভারত ও শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখবে বলে মন্তব্য করেন পন্টিং।
তিনি বলেন,’অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডের দিকে তাকালে অন্য যে কোনো দলের মতোই সুযোগ আছে। কিছুটা পালাবদল চলছে, তবে খুব বড় কিছু নয়। স্কোয়াডে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছে। তবে কয়েকজন চোটে আছে বা চোট থেকে ফিরছে, এই মুহূর্তে এটিই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার স্পিন বিভাগে শক্তি দেখছেন পন্টিং। নিয়মিত আইপিএল খেলার সুবাদে ভারতের কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে অ্যাডাম জাম্পার। এছাড়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও কুপার কনোলির পার্টটাইম স্পিনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আইসিসি রিভিউতে পন্টিং আরও বলেন,’অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে ভালো দিক হলো তাদের কাছে একাধিক অলরাউন্ডার আছে। স্টয়নিস, ম্যাক্সওয়েল, ক্যামেরন গ্রিন সবাই গুরুত্বপূর্ণ। কুপার কনোলি বিগ ব্যাশে টানা দ্বিতীয়বার টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছে। উইকেটে টার্ন থাকলে জাম্পা ও ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে কনোলিকেও একাদশে দেখা যেতে পারে। এতে স্পিনে তিনটি কার্যকর বিকল্প পাবে দলটি।’
চোট সমস্যা অবশ্য অস্ট্রেলিয়াকে ভোগাচ্ছে। বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন না অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। এছাড়া জশ হ্যাজলউডকে নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলেও সেখানে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সব খেলোয়াড় অংশ নেননি।
বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া খেলবে ‘বি’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও ওমান। ১১ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া।

