টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরাসরি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) দায়ী করেছেন আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশন সামি-উল-হাসান বার্নি। তার মতে, বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিসিসিআই আরও বিচক্ষণতার পরিচয় দিলে আজকের এই সংকটময় পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সে দল পাওয়া মুস্তাফিজকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপের মুখে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিসিসিআই। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিশ্বকাপ বর্জন এবং সবশেষে পাকিস্তানের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর মতো বড় ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়।
বার্নি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ক্রিকেট প্রশাসকদের উচিত ছিল এই বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে হ্যান্ডেল করা। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি জনসমক্ষে প্রচার না করে ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে একান্ত আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেত। গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআই সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া প্রকাশ্যে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটিকেই আগুনের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে দেখছেন এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তার মতে, ওই একটি হঠকারী বিবৃতিই দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে এবং টুর্নামেন্টের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলে। আইসিসি সমাধান না মেলায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এই অস্থিরতার রেশ ধরে পাকিস্তানও ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে আসন্ন বিশ্বকাপ। বার্নি মনে করেন, বিসিসিআই যদি প্রকাশ্য বিবৃতি এড়িয়ে কৌশলী হতো, তবে পর্দার আড়ালেই বিষয়টি মিটে যেত এবং ক্রিকেট বিশ্বকে এমন নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি হতে হতো না।

