ভারতের সঙ্গে চুক্তি করায় ইউরোপের ওপর ক্ষেপেছে যুক্তরাষ্ট্র

0
ভারতের সঙ্গে চুক্তি করায় ইউরোপের ওপর ক্ষেপেছে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে সরাসরি ইউরোপের নেতৃত্বকে আক্রমণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ভারতের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ভূরাজনীতির চেয়ে বাণিজ্যকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কড়া সমালোচনা করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজেদের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের বাস্তব সিদ্ধান্তের গভীর বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বেসেন্টের মতে, ভূরাজনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার চেয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইউরোপ।

মার্কিন গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, যেকোনও দেশই নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ অনুসরণ করতেই পারে, তবে (ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে) ইউরোপের সিদ্ধান্ত ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের নীতিগত অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

তিনি বলেন, ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে এই বিশাল বাণিজ্য চুক্তি কি আমেরিকার জন্য হুমকি? না। তারা নিজেদের জন্য যা ভালো মনে করে, সেটাই করুক। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সামনের সারিতে থেকেও ইউরোপ যেসব কাজ করছে, তা হতাশাজনক।

বেসেন্ট অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরোক্ষভাবে এমন যুদ্ধেই অর্থ জোগাচ্ছে, যার নিন্দা তারা প্রকাশ্যে করে থাকে। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলেও ভারত ডিসকাউন্টে ব্যাপক হারে রুশ অপরিশোধিত তেল কিনতে শুরু করে। বেসেন্টের অভিযোগ, সেই তেল পরিশোধন হয়ে ইউরোপেই ব্যাপকভাবে বিক্রি করছে ভারত।

তিনি বলেন, ভারত নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ তেল কিনতে শুরু করল, আর জানেন কে সেই তেল থেকে তৈরি পণ্য কিনল? ইউরোপ। অর্থাৎ ইউরোপ নিজের বিরুদ্ধেই যুদ্ধের অর্থ জুগিয়েছে, এমন গল্প কেউ বানিয়েও বলতে পারত না।

বেসেন্ট জানান, রুশ তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, কিন্তু ইউরোপ সেই পথে হাঁটেনি। তার মতে, ইউরোপ ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই সিদ্ধান্ত এড়িয়েছে, যাতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ব্যাহত না হয়।

তিনি বলেন, ইউরোপ (ভারতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এই পদক্ষেপে) আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়নি, কারণ তারা এই বাণিজ্য চুক্তি করতে চেয়েছিল। যখনই ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের জনগণের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন, মনে রাখতে হবে— তারা ইউক্রেনের মানুষের চেয়ে বাণিজ্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যুদ্ধ থামানোর চেয়ে ইউরোপীয় বাণিজ্য তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here