জাতীয় দল ঢাকায়, কোচ বাটলারকে নেপাল পাঠাল বাফুফে

0
জাতীয় দল ঢাকায়, কোচ বাটলারকে নেপাল পাঠাল বাফুফে

ঘরোয়া নারী ফুটবল লিগে বিরতি শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কারণে। নবম রাউন্ড শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে লিগ বন্ধ, আর এর মধ্যেই একসঙ্গে দুটি বড় প্রস্তুতিতে নেমেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

একদিকে শুরু হয়েছে জাতীয় নারী দলের এশিয়ান কাপ প্রস্তুতি, অন্যদিকে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল পাঠানো হয়েছে নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে।

বুধবার সন্ধ্যায় নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বয়সভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। চার দল নিয়ে লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসর, যেখানে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল ফাইনালে খেলবে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না।

এই প্রতিযোগিতাকে বাফুফে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তার প্রমাণ মিলেছে কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্তে। জাতীয় দলের প্রস্তুতি শুরু হলেও প্রধান কোচ পিটার বাটলার ও সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান লিটুকে পাঠানো হয়েছে নেপালে, বয়সভিত্তিক দলের ট্রফি ধরে রাখার মিশনে। ২০২৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আসরে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

অন্যদিকে কোচ ও সহকারী কোচ ছাড়া বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘ক্লোজড ডোর’ অনুশীলন শুরু করেছে জাতীয় নারী দল। এশিয়ান কাপ সামনে রেখে এই ক্যাম্প চললেও খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করেনি বাফুফে। এমনকি কতজন খেলোয়াড় অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। জানা গেছে, আপাতত ২৯ জনকে ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে।

এর আগে জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্প পাঁচ তারকা হোটেলে হলেও এবার খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে পল্টনের একটি হোটেলে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় ক্যাম্প চলবে। এরপর দল যাবে থাইল্যান্ডে, সেখানে এক সপ্তাহ অনুশীলন শেষে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাবে। সিডনিতে ক্যাম্প চলবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগ পর্যন্ত।

এশিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। একটি ব্যাংককে ও অন্যটি সিডনিতে হওয়ার কথা রয়েছে। ব্যাংককে ম্যাচ আয়োজন সম্ভব না হলে দুটি ম্যাচই সিডনিতে স্থানীয় ক্লাব দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ অভিযান। গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান।

এশিয়ান কাপ শুধু মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, এই টুর্নামেন্ট থেকে ফিফা নারী বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে খেলার সুযোগও রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির মাঝেই জাতীয় দলের প্রধান ও সহকারী কোচের বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোচ পিটার বাটলার নিজ উদ্যোগে নেপাল গেছেন, নাকি বাফুফের সিদ্ধান্তেই তাকে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিদেশে গেলেও কোনো মিডিয়া ব্রিফিং করা হয়নি। ফলে জাতীয় দল রেখে বয়সভিত্তিক দলে কোচিং করানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা এখনো অজানা।

বাফুফের এক কর্মকর্তা জানান, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই অনূর্ধ্ব-২০ ও জাতীয় দলের ক্যাম্পের সঙ্গে যুক্ত। সামনে এপ্রিলে থাইল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপও খেলবে বাংলাদেশ। তবে এসব বিষয় নেপাল যাওয়ার আগে পরিষ্কারভাবে জানানো যেত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামার আগে জাতীয় দলের প্রস্তুতি আর বয়সভিত্তিক দলের সাফ মিশন। এই দুইয়ের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাফুফে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here