সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেলের সুপারিশ গত ২১ জানুয়ারি (বুধবার) জমা দিয়েছে বেতন কমিশন। প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।
সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় সুখবর অপেক্ষা করছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়বে কতটা?
নতুন এই সুপারিশে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে নিম্ন ও মধ্যম ধাপের কর্মচারীদের ওপর। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষকরা তাদের বর্তমান ১৩তম গ্রেড অনুযায়ী নতুন স্কেলে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। বর্তমানে যাদের মূল বেতন ১১,০০০ টাকা, নতুন স্কেলে তা এক লাফে ২৪,০০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, মূল বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ার স্বপ্ন দেখছেন হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের বৈষম্য কমছে:
কমিশন এবার বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনতে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আগে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১:৯.৪, যা কমিয়ে এবার ১:৮ করা হয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা, এই নতুন স্কেল বাস্তবায়নে আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে বিশেষ সুবিধা:
কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, শুধু মূল বেতন নয়, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের কথা মাথায় রেখেই ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত নিয়ে এই ‘বাস্তবসম্মত’ সুপারিশ করা হয়েছে।
সচিবদের জন্য বিশেষ ধাপ ও সশস্ত্র বাহিনীর নতুন পরিকল্পনা:
সাধারণ ২০টি গ্রেডের বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য বিশেষ ধাপ তৈরির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেসামরিক কর্মচারীদের এই প্রতিবেদন জমার পর এখন সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কবে নাগাদ কার্যকর হবে এই বেতন?
২০২৫ সালের জুলাইয়ে গঠিত এই কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এখন একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হবে, যারা এই প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনার পর কার্যকর করার পদ্ধতি ঠিক করবেন।

